ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোলায় মহিষ চুরি রোধে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি কুমিল্লায় ছাত্রদলের মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম, ভিডিও ভাইরাল জাসদ কার্যালয়ে অভিযান: আটক ২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ নেপালের হিমলুং পর্বতে তুষারধস, ১০ পর্বতারোহী ও গাইড নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বৃটিশ বিমানঘাঁটির কাছে বাড়ি খালি করল পুলিশ বিএনপি চাঁদাবাজ দল—এই ঢালাও অভিযোগের মানে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা নিয়ে ঢাবি-বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদলের বৈঠক মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক দখল করতে দেওয়া হবে না: আসিফ মাহমুদ চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: জহির উদ্দিন স্বপন

সিসিটিভিতে ধরা পড়ল বৃদ্ধা হত্যার দৃশ্য, গ্রেপ্তার নাতি কারাগারে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঢাকার দক্ষিণখানে নিজ ফ্ল্যাটে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাহবুব আরা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মায়ের নিরাপত্তার জন্য ছেলের বসানো শোবার ঘরের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র। সেই ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযুক্ত নাতি আবু তালহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত মাহবুব আরা বেগমের স্বামী মারা যান প্রায় ৯ মাস আগে। এরপর থেকে তিনি দক্ষিণখানের দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকায় নিজের চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে একাকী বসবাস করে আসছিলেন। সন্তানদের পড়াশোনার কারণে তাঁর ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান পরিবার নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় থাকেন। মা একা থাকায় তাঁর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শোবার ঘরসহ বাসার বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আবু তালহা নিহত মাহবুব আরার দেবরের ছেলের ঘরের নাতি এবং তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে সারাদিন মায়ের খোঁজ নিতে পারেননি মাহবুব হাসান। পরে গভীর রাতে, আনুমানিক রাত তিনটার দিকে মোবাইল ফোনে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে গিয়ে তিনি এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটের দিকে আবু তালহা কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সহায়তায় ফ্ল্যাটে ঢোকেন। এরপর শোবার ঘরে গিয়ে বালিশ ও কাপড় দিয়ে মাহবুব আরা বেগমকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। বৃদ্ধা নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাঁকে খাট থেকে টেনে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তালহা। এরপর কানের সোনার দুল খুলে নিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যান তিনি।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে মাহবুব হাসান। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকা থেকে আবু তালহাকে গ্রেপ্তার করে। আজ শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ-আল-মামুন আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে হাজির করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করার পেছনে সিসিটিভি ক্যামেরার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার কারণেই হত্যাকারীকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আমি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সিসিটিভিতে ধরা পড়ল বৃদ্ধা হত্যার দৃশ্য, গ্রেপ্তার নাতি কারাগারে

আপডেট সময় : ০১:৩৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার দক্ষিণখানে নিজ ফ্ল্যাটে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাহবুব আরা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মায়ের নিরাপত্তার জন্য ছেলের বসানো শোবার ঘরের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র। সেই ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযুক্ত নাতি আবু তালহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত মাহবুব আরা বেগমের স্বামী মারা যান প্রায় ৯ মাস আগে। এরপর থেকে তিনি দক্ষিণখানের দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকায় নিজের চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে একাকী বসবাস করে আসছিলেন। সন্তানদের পড়াশোনার কারণে তাঁর ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান পরিবার নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় থাকেন। মা একা থাকায় তাঁর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শোবার ঘরসহ বাসার বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আবু তালহা নিহত মাহবুব আরার দেবরের ছেলের ঘরের নাতি এবং তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে সারাদিন মায়ের খোঁজ নিতে পারেননি মাহবুব হাসান। পরে গভীর রাতে, আনুমানিক রাত তিনটার দিকে মোবাইল ফোনে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে গিয়ে তিনি এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটের দিকে আবু তালহা কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সহায়তায় ফ্ল্যাটে ঢোকেন। এরপর শোবার ঘরে গিয়ে বালিশ ও কাপড় দিয়ে মাহবুব আরা বেগমকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। বৃদ্ধা নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাঁকে খাট থেকে টেনে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তালহা। এরপর কানের সোনার দুল খুলে নিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যান তিনি।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে মাহবুব হাসান। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকা থেকে আবু তালহাকে গ্রেপ্তার করে। আজ শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ-আল-মামুন আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে হাজির করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করার পেছনে সিসিটিভি ক্যামেরার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার কারণেই হত্যাকারীকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আমি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo