ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ জন বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার লালমোহনে দুর্গোৎসব ও সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সভা মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩ ২২টি লাইসেন্সবিহীন অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার সতর্কবার্তা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসিতে ১২ দিনব্যাপী এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু পাবনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত

মাতৃদুগ্ধ পানের হার কমছে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই, অথচ বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃদুগ্ধ পানের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫ সালের মাল্টিক্লাস্টার ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) অনুযায়ী, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার মাত্র ৩০ শতাংশ। এছাড়া শূন্য থেকে ৫ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের হার মাত্র ৫৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো সঠিকভাবে দুধ পান নিশ্চিত না হওয়া শিশুর পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

মাতৃদুগ্ধ পানের এই সূচকগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদে বড় ধরনের উন্নতি নেই, বরং সাম্প্রতিক সময়ে ওঠানামা করছে। এমআইসিএস ২০১২-১৩ জরিপে একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের হার ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে বেড়ে প্রায় ৬৩ শতাংশে পৌঁছায়। তবে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফলে তা কমে ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস)-এর তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়; ২০১১ সালের প্রায় ৬৪ শতাংশ (২০১১) থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশ (২০১৭-১৮) হলেও ২০২২ সালের বিডিএইচএস অনুযায়ী তা ৫৫ শতাংশে নেমে আসে।

মায়ের দুধে ৮৭ শতাংশ পানি, ৬.৫ থেকে ৭.২ শতাংশ শর্করা, ৩ থেকে ৪ শতাংশ চর্বি, ১ থেকে ১.৫ শতাংশ প্রোটিন, ০.২ শতাংশ খনিজ এবং প্রচুর ভিটামিন ও এনজাইম থাকে। এই উপাদানগুলো শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠন, মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল জানান, মাতৃদুগ্ধের অ্যান্টিবডি ও জৈব উপাদান শিশুকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মাতৃদুগ্ধ না পেলে এবং মায়ের পুষ্টিহীনতা থাকলে শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম (বিএনএফ)-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মজিবুর রহমান বলেন, মাতৃদুগ্ধ পানের হার কমলে শিশু অপুষ্টি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতায় ভোগে। জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে স্তন্যপান না করালে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, মায়ের প্রথম দুধ শিশুর জন্য প্রাকৃতিক টিকা হিসেবে কাজ করে, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি কমায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কর্মজীবী মায়েদের জন্য সহায়ক পরিবেশের অভাব এবং বিকল্প খাদ্যের ওপর নির্ভরতা মাতৃদুগ্ধ পানের হার হ্রাসের অন্যতম কারণ। ফাস্টফুডের আধিক্য এবং মাতৃদুগ্ধের অভাব একটি পুষ্টিহীন জাতি তৈরির ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে আজ ১ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস এবং ২০১০ সাল থেকে জাতীয়ভাবে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১-৭ আগস্ট) পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবস ও সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘টেকসই জীবনের সুদৃঢ় সূচনা: সফল উদ্যোগগুলো শক্তিশালী করি’।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মাতৃদুগ্ধ পানের হার কমছে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই, অথচ বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃদুগ্ধ পানের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫ সালের মাল্টিক্লাস্টার ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) অনুযায়ী, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার মাত্র ৩০ শতাংশ। এছাড়া শূন্য থেকে ৫ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের হার মাত্র ৫৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো সঠিকভাবে দুধ পান নিশ্চিত না হওয়া শিশুর পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

মাতৃদুগ্ধ পানের এই সূচকগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদে বড় ধরনের উন্নতি নেই, বরং সাম্প্রতিক সময়ে ওঠানামা করছে। এমআইসিএস ২০১২-১৩ জরিপে একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পানের হার ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে বেড়ে প্রায় ৬৩ শতাংশে পৌঁছায়। তবে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফলে তা কমে ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস)-এর তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়; ২০১১ সালের প্রায় ৬৪ শতাংশ (২০১১) থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশ (২০১৭-১৮) হলেও ২০২২ সালের বিডিএইচএস অনুযায়ী তা ৫৫ শতাংশে নেমে আসে।

মায়ের দুধে ৮৭ শতাংশ পানি, ৬.৫ থেকে ৭.২ শতাংশ শর্করা, ৩ থেকে ৪ শতাংশ চর্বি, ১ থেকে ১.৫ শতাংশ প্রোটিন, ০.২ শতাংশ খনিজ এবং প্রচুর ভিটামিন ও এনজাইম থাকে। এই উপাদানগুলো শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠন, মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল জানান, মাতৃদুগ্ধের অ্যান্টিবডি ও জৈব উপাদান শিশুকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মাতৃদুগ্ধ না পেলে এবং মায়ের পুষ্টিহীনতা থাকলে শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম (বিএনএফ)-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মজিবুর রহমান বলেন, মাতৃদুগ্ধ পানের হার কমলে শিশু অপুষ্টি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতায় ভোগে। জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে স্তন্যপান না করালে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, মায়ের প্রথম দুধ শিশুর জন্য প্রাকৃতিক টিকা হিসেবে কাজ করে, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি কমায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কর্মজীবী মায়েদের জন্য সহায়ক পরিবেশের অভাব এবং বিকল্প খাদ্যের ওপর নির্ভরতা মাতৃদুগ্ধ পানের হার হ্রাসের অন্যতম কারণ। ফাস্টফুডের আধিক্য এবং মাতৃদুগ্ধের অভাব একটি পুষ্টিহীন জাতি তৈরির ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে আজ ১ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস এবং ২০১০ সাল থেকে জাতীয়ভাবে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১-৭ আগস্ট) পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবস ও সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘টেকসই জীবনের সুদৃঢ় সূচনা: সফল উদ্যোগগুলো শক্তিশালী করি’।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh