ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

ঢাবি ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত সান্ধ্য আইন, প্রবেশে কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এসব নিয়মকে হয়রানিমূলক ও বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি বাস্তবায়নের জন্য সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা এবং এরপর কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

সোমবার দুপুরে ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে ২৬ জুলাই রোববার রাতে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় বিভিন্ন হলের নারী প্রতিনিধিদের এক সভায় এই নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস জানান, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার অজুহাতে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ, নির্দিষ্ট সময়ের পর হলে প্রবেশে জটিলতা এবং পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বাধা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হলের মূল ফটকের সময়সীমা বৃদ্ধি করে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে যেকোনো সময় লেট গেট দিয়ে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে হল থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া হয়রানিমুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা ও বোনদের হলের রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।

একই সঙ্গে স্মারকলিপিতে ২৪ ঘণ্টা নিয়মতান্ত্রিক প্রবেশ ও বহির্গমন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে অন্য ছাত্রী হলে প্রবেশ ও রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদান শেষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, সাত দিনের মধ্যে এসব অযৌক্তিক নিয়ম প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের ভিপি রাফিয়া রেহনুমা হৃদি এসব কড়াকড়িকে নারীদের বন্দী করে রাখার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্র সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রি জানান, নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী, ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা এবং বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৩০আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৯: ০৪

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাবি ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত সান্ধ্য আইন, প্রবেশে কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এসব নিয়মকে হয়রানিমূলক ও বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি বাস্তবায়নের জন্য সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা এবং এরপর কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

সোমবার দুপুরে ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে ২৬ জুলাই রোববার রাতে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় বিভিন্ন হলের নারী প্রতিনিধিদের এক সভায় এই নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস জানান, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার অজুহাতে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ, নির্দিষ্ট সময়ের পর হলে প্রবেশে জটিলতা এবং পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বাধা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হলের মূল ফটকের সময়সীমা বৃদ্ধি করে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে যেকোনো সময় লেট গেট দিয়ে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে হল থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া হয়রানিমুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা ও বোনদের হলের রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।

একই সঙ্গে স্মারকলিপিতে ২৪ ঘণ্টা নিয়মতান্ত্রিক প্রবেশ ও বহির্গমন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে অন্য ছাত্রী হলে প্রবেশ ও রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদান শেষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, সাত দিনের মধ্যে এসব অযৌক্তিক নিয়ম প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের ভিপি রাফিয়া রেহনুমা হৃদি এসব কড়াকড়িকে নারীদের বন্দী করে রাখার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্র সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রি জানান, নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী, ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা এবং বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৩০আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৯: ০৪

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh