আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং আজ
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

আনোয়ারায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠান আজ সোমবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তত ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার প্রত্যাশা করছে। এর ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে চীনা বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। সরকার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে চার হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট থেকে আসবে। প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, চার লেনের সড়ক, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হবে।
২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পর্যায়ে এই প্রকল্পের সমঝোতা হয়। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আটকে থাকার পর ২০২২ সালে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) এর ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করা হয়। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে চুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। বেজার লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে এবং প্রথম তিন বছরের মধ্যে ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট কারখানা স্থাপনের উপযোগী করা হবে।
এই অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে বস্ত্র, প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, মেডিক্যাল ডিভাইস ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে উঠবে। এছাড়া সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় মোংলা বন্দরে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং বিডার মাধ্যমে বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের ২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৯২১ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে বিডা জানিয়েছে।
চীনা বিনিয়োগের প্রবণতাও এখন বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভূমি ইজারা চুক্তি করেছে, যার সম্ভাব্য বিনিয়োগ ৭১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে ২৩টি প্রতিষ্ঠানই চীনা মালিকানাধীন বা চীনা যৌথ উদ্যোগের, যাদের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রায় ৪৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এসেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। পোশাক খাতের বাইরে ড্রোন, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, কপার পণ্য, মেডিক্যাল ডিভাইস, লজিস্টিকস ও হাইড্রোপনিক প্রযুক্তিতেও চীনা বিনিয়োগ বাড়ছে।


























