উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ঝুলন্ত সেতুর গাইডওয়াল

- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য নির্মাণাধীন একটি ঝুলন্ত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) ও সুরক্ষামূলক গাইডওয়াল উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন বিপর্যয়ে কাজের মান ও তদারকি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দাবি করেছে, পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোত এবং টানা ভারী বর্ষণের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের ধারণা, প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশায় বড় ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে নির্মাণাধীন এই ঝুলন্ত সেতুটি। এর দুই পাশের সংযোগ সড়কের বড় অংশ ধসে গেছে, যা পরবর্তীতে তাড়াহুড়ো করে সংস্কার করেছে এলজিইডি। এছাড়া গাইডওয়ালের একটি বড় অংশ ভেঙে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেতুটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে যেকোনো সময় পুরো কাঠামোটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কাজ শেষ হওয়ার আগেই অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়ায় এর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
জানা গেছে, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখে পাহাড়ি ছড়ার ওপর থাকা পুরোনো সেতুটি কয়েক বছর আগে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এলজিইডি নতুন একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত মেয়াদ পার হলেও কাজ শেষ হয়নি, অথচ এর মধ্যেই ঠিকাদারকে প্রকল্পের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেতা চিত্ত রঞ্জন বর্মণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পর্যটন এলাকার একটি সেতু নির্মাণে এমন অনিয়ম অত্যন্ত হতাশাজনক। গুরুত্বপূর্ণ এই ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণে ঠিকাদারের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ছড়ার স্রোতে ক্ষতি হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশাতেও ত্রুটি থাকতে পারে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


























