মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বকেই বেছে নেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

- আপডেট সময় : ০৮:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সবসময় বিভক্তির পরিবর্তে সংলাপ এবং মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বকেই বেছে নেবে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য এআরএফ সদস্য দেশগুলোর প্রতি সম্মিলিত উদ্যোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে বাংলাদেশ মাদক পাচার, মানবপাচার ও অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালানের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে রাষ্ট্রহীন হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবেই তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং এর রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তিনি রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে এআরএফভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই সংলাপ ও কূটনীতিকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জানান, দুর্যোগ ত্রাণবিষয়ক এআরএফ আন্তঃসেশনাল বৈঠকের সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ চালিয়ে যাবে।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তা ও ভ্রান্ত তথ্যের প্রচার রোধে ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ও উন্নয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি সুশাসন কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দেন। পরিশেষে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. খলিলুর রহমান।



























