বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে টুখেলের কৌশল নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার ঝড়

- আপডেট সময় : ০২:০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানের পরাজয় এবং ইংলিশ কোচ থমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে জোর সমালোচনা। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে উজ্জ্বল পারফর্ম করা হ্যারি কেইনকে সেমিফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগে নামানোর টুখেলের সিদ্ধান্তকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।
একটি অনুষ্ঠানে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, হ্যারি কেইনের মতো দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়কে রক্ষণাত্মক দায়িত্ব দেওয়াটা বড় ভুল ছিল। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইংল্যান্ড লিড নেওয়ার পর তাদের সেরা খেলোয়াড়টিকে ডিফেন্সে পাঠিয়ে দেওয়াটা কৌশলগত ভুল ছিল, যেখানে দলের আরও আক্রমণাত্মক হওয়া প্রয়োজন ছিল। অবশ্য ইংলিশ কোচ টুখেল সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি।
তবে ট্রাম্পের ফুটবল-বিষয়ক মন্তব্যের চেয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এবং মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড মওকুফের ঘটনা নিয়ে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়া বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে ফিফা অবিশ্বাস্যভাবে ১২ মাসের জন্য স্থগিত করেছিল। ট্রাম্প টাওয়ারে ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি জিয়ান্নিকে ফোন করে বালোগানকে খেলায় ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
ফিফা প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের এমন সখ্যতা ও পিঠ-চাপড়ানির ঘটনা ক্রীড়াঙ্গনে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যদিও ইনফান্তিনো বর্তমানে ভিসা জটিলতা, টিকিটের চড়া মূল্য এবং অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের কারণে সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন, তবুও ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ইনফান্তিনো মন্তব্য করেন যে, আমেরিকান স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং তারা আমেরিকায় পুরো বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের পূর্বাভাসের কারণেই ইনফান্তিনো এসব সমালোচনার মুখেও নিশ্চিন্ত রয়েছেন। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং ফুটবল কূটনীতি ও কর্পোরেট ক্ষমতার এক নজিরবিহীন প্রদর্শনী হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিচ্ছে।


























