ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের উপস্থিতিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, ঢোকা নিয়ে সংশয় ইরানের দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ সংস্কারের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে: ঝালকাঠিতে হাসনাত আবদুল্লাহ বিমানবন্দরে ফলের ক্যারেটে মিলল ১৬ কেজি স্বর্ণ বগুড়ার আলোচিত ৩ ইউনিয়নের বিতর্কিত নাম পরিবর্তন বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ের মূল চাবিকাঠি মেসি ও মার্তিনেজ ভারতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৯ জনের মৃত্যু ফেসবুক বিভ্রাটে বিপাকে ব্যবহারকারীরা, নিউজফিড লোড হচ্ছে না হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন বিষঝাড়া ওঝা ইমরান বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ যেভাবে দেখবেন টিভি ও অনলাইনে

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাত: ইরানের ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা ও পাল্টা ড্রোন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো এই দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রাণঘাতী হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তারা ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সেন্টকমের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। ১৭ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টা) এই অভিযান শেষ হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় ইরানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কমান্ড। পাশাপাশি, ইরানি বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে।

সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে অঞ্চলটিতে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কুয়েত ও জর্ডানে থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি এবং আলী আল সালেম ঘাঁটির সদর দফতর, গোলাবারুদ ডিপো ও সংযোগকারী সেতুগুলোতে সফল ড্রোন আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বা আল আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর জ্বালানি ট্যাংকেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যারা ইরানের শক্তি ও ইচ্ছার পরীক্ষা নেবে, তাদের কঠোর প্রস্তুতির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে, যুদ্ধের ডামাডোলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্মকর্তারা নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া বাহরাইনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে এসব হামলা চালানো হয়। ১৭ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় (জিএমটি ১৮ জুলাই রাত ১টা ৩০ মিনিট, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টা) এই হামলা শেষ হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাত: ইরানের ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা ও পাল্টা ড্রোন

আপডেট সময় : ১১:০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
print news

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো এই দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রাণঘাতী হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তারা ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সেন্টকমের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। ১৭ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টা) এই অভিযান শেষ হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় ইরানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কমান্ড। পাশাপাশি, ইরানি বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে।

সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে অঞ্চলটিতে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কুয়েত ও জর্ডানে থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি এবং আলী আল সালেম ঘাঁটির সদর দফতর, গোলাবারুদ ডিপো ও সংযোগকারী সেতুগুলোতে সফল ড্রোন আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বা আল আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর জ্বালানি ট্যাংকেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যারা ইরানের শক্তি ও ইচ্ছার পরীক্ষা নেবে, তাদের কঠোর প্রস্তুতির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে, যুদ্ধের ডামাডোলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্মকর্তারা নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া বাহরাইনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে এসব হামলা চালানো হয়। ১৭ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় (জিএমটি ১৮ জুলাই রাত ১টা ৩০ মিনিট, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টা) এই হামলা শেষ হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin