ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরো থেকে বিজ্ঞানীদের গণপদত্যাগ: বেসরকারি স্টার্টআপে যোগ দেওয়ার হিড়িক দেশে ফিরলেই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হবে: শামা ওবায়েদ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম জুলাইয়ের চেতনা থেকে বিএনপি সরকার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দিল নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন রাজ্যসভার এমপি পদ ছাড়লেন কোয়েল মল্লিক, দেখা করলেন বিজেপি নেতার সঙ্গে জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগর বন্ধের হুমকি ইরানের রথযাত্রা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অসুস্থ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

জেড ক্যাটাগরির পাওয়ার গ্রিড কেন ডিএস৩০ সূচকে, উঠছে প্রশ্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০-এর সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। টানা তিন বছর লোকসানে থাকা এবং লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে জেড ক্যাটাগরিতে থাকা এই কোম্পানিটি কীভাবে শীর্ষ ৩০ কোম্পানির সূচকে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ডিএসইর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ডিএস৩০ সূচকে পাওয়ার গ্রিডের পাশাপাশি বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) এবং দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে কোহিনূর কেমিক্যাল (বাংলাদেশ), ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস এবং লিন্ডে বাংলাদেশ সূচক থেকে বাদ পড়েছে।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তাদের নিট লোকসান ছিল ৬২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা কমে ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই লোকসানের পরিমাণ আরও কমে ২১০ কোটি ৬২ লাখ টাকায় নেমে আসে। লোকসান সত্ত্বেও কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিধি বেড়েছে; গত তিন বছরে রাজস্ব প্রায় ২ হাজার ৪৪০ কোটি থেকে বেড়ে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১১৬ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সা হয়েছে। কোম্পানির বর্তমান বাজার মূলধন প্রায় ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা এবং ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন প্রায় ৭১৩ কোটি টাকা। ২০২০ ও ২০২১ সালে ২০ শতাংশ এবং ২০২২ ও ২০২৩ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হওয়ায় কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতে নেমে যায়।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরেছে। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৯৮ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ টাকা ২২ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে তা ৬ টাকা ২৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর মতে, আয় বৃদ্ধি, ব্যয় সংকোচন এবং নগদ অর্থ আদায় বাড়ার কারণে আর্থিক অবস্থার উন্নতির ভিত্তিতেই কোম্পানিটি সূচকে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে।

ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান জানান, সূচকে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির ক্যাটাগরি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। তিনি বলেন, পাওয়ার গ্রিড সূচকের সকল ক্রাইটেরিয়া পূরণ করেছে এবং সর্বশেষ তিন প্রান্তিকের ফলাফল ইতিবাচক। সূচক নীতিমালা অনুযায়ী ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন, তারল্য, নিয়মিত লেনদেন এবং ১২ মাসের আর্থিক ফলাফল বিবেচনা করা হয়।

তবে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, লভ্যাংশ প্রদান শুরু না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটিকে পুরোপুরি মৌলভিত্তিসম্পন্ন বলা কঠিন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. আল-আমিন বলেন, সাধারণভাবে ব্লু-চিপ সূচকে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় এবং এ বিষয়ে ডিএসইর স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

জেড ক্যাটাগরির পাওয়ার গ্রিড কেন ডিএস৩০ সূচকে, উঠছে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১১:৩২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
print news

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০-এর সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। টানা তিন বছর লোকসানে থাকা এবং লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে জেড ক্যাটাগরিতে থাকা এই কোম্পানিটি কীভাবে শীর্ষ ৩০ কোম্পানির সূচকে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ডিএসইর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ডিএস৩০ সূচকে পাওয়ার গ্রিডের পাশাপাশি বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) এবং দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে কোহিনূর কেমিক্যাল (বাংলাদেশ), ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস এবং লিন্ডে বাংলাদেশ সূচক থেকে বাদ পড়েছে।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তাদের নিট লোকসান ছিল ৬২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা কমে ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই লোকসানের পরিমাণ আরও কমে ২১০ কোটি ৬২ লাখ টাকায় নেমে আসে। লোকসান সত্ত্বেও কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিধি বেড়েছে; গত তিন বছরে রাজস্ব প্রায় ২ হাজার ৪৪০ কোটি থেকে বেড়ে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১১৬ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সা হয়েছে। কোম্পানির বর্তমান বাজার মূলধন প্রায় ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা এবং ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন প্রায় ৭১৩ কোটি টাকা। ২০২০ ও ২০২১ সালে ২০ শতাংশ এবং ২০২২ ও ২০২৩ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হওয়ায় কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতে নেমে যায়।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরেছে। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৯৮ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ টাকা ২২ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে তা ৬ টাকা ২৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর মতে, আয় বৃদ্ধি, ব্যয় সংকোচন এবং নগদ অর্থ আদায় বাড়ার কারণে আর্থিক অবস্থার উন্নতির ভিত্তিতেই কোম্পানিটি সূচকে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে।

ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান জানান, সূচকে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির ক্যাটাগরি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। তিনি বলেন, পাওয়ার গ্রিড সূচকের সকল ক্রাইটেরিয়া পূরণ করেছে এবং সর্বশেষ তিন প্রান্তিকের ফলাফল ইতিবাচক। সূচক নীতিমালা অনুযায়ী ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন, তারল্য, নিয়মিত লেনদেন এবং ১২ মাসের আর্থিক ফলাফল বিবেচনা করা হয়।

তবে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, লভ্যাংশ প্রদান শুরু না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটিকে পুরোপুরি মৌলভিত্তিসম্পন্ন বলা কঠিন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. আল-আমিন বলেন, সাধারণভাবে ব্লু-চিপ সূচকে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় এবং এ বিষয়ে ডিএসইর স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din