ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের মালিকের ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় পাকিস্তানের শোক নাগরিকত্ব না বদলেই তিন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা সেই তারকা রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের রেসপন্স টিম পানিবন্দি মানুষের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইরানে হামলা চালিয়ে ভুল পথে মার্কিন বাহিনী: তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ সৌদি আরবের প্রকাশিত হলো প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল রাজধানীর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশ এইচএসসি ২০২৬: ভূগোলে ভালো ফলাফলের ৮টি কার্যকরী কৌশল

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে স্বপ্নভঙ্গ নরওয়ের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নরওয়ে যখন বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফেরে, তখন সেটি কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল না, ছিল একটি জাতির আবেগ। ফুটবল তখন আর শুধু খেলা থাকে না, ৯০ মিনিটের জন্য সেটি হয়ে ওঠে একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্মিলিত অনুভূতি। ছোট ছোট শহর থেকে শুরু করে অসলোর ব্যস্ত রাস্তা, এমনকি হাসপাতালের করিডরেও তখন বিরাজ করছিল এক অদ্ভুত নীরবতা। টেলিভিশনের পর্দায় চোখ ছিল তিন প্রজন্মের মানুষের, যারা ১৯৯৮ সালের সেই স্মরণীয় ব্রাজিল জয়ের স্মৃতি আঁকড়ে কিংবা নতুন স্বপ্নের প্রত্যাশায় একযোগে তাকিয়ে ছিল মাঠের দিকে।

নরওয়ের এই যাত্রায় হলান্ড ছিলেন দলের প্রধান ভরসা। প্রতিপক্ষের বক্সে যখনই তিনি বল নিয়ে এগিয়ে যেতেন, সারা দেশের মানুষের নিঃশ্বাস যেন আটকে যেত। প্রতিটি ম্যাচে জয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নরওয়ের মানুষের স্বপ্ন বড় হতে থাকে এবং তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে ফুটবলের নির্মম বাস্তবতা হলো, স্বপ্ন যখন তুঙ্গে থাকে, তখনই তা সবচেয়ে বড় আঘাত হানে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ বাঁশি যখন বাজল, স্কোরবোর্ডে লেখা নরওয়ে ১-ইংল্যান্ড ২। এই পরাজয়ের ফলে মাঠের লড়াই শেষ হয়, আর সেই সঙ্গে শেষ হয় চার বছরের অপেক্ষার ফসল। হতাশায় কেউ টিভি বন্ধ করে দেন, কেউ বা স্তব্ধ হয়ে বসে থাকেন।

ম্যাচ শেষে অসলোর রাস্তায় আবার গাড়ির শব্দ শোনা যায়, রেস্তোরাঁগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে এবং জীবন তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে যায়। বিশ্বকাপের সেই ৯০ মিনিটে নরওয়ের মানুষের কাছে মনে হয়েছিল সবকিছু সত্যিই থেমে গেছে। তবে এই বিশ্বকাপ থেকে নরওয়ে একটি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। হলান্ডের এই দলটি যে স্মৃতি তৈরি করেছে, তা ভবিষ্যতে হয়তো কোনো বাবা তার সন্তানকে বলবে—২০২৬ সালে আমরা আবার স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং বিশ্বকাপে ফিরেছিলাম। ফুটবল ম্যাচ শেষ হলেও নরওয়ের ফুটবলের এই জাগরণ দীর্ঘস্থায়ী এক প্রভাব রেখে গেল।

নিউজটি শেয়ার করুন

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে স্বপ্নভঙ্গ নরওয়ের

আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
print news

১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নরওয়ে যখন বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফেরে, তখন সেটি কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল না, ছিল একটি জাতির আবেগ। ফুটবল তখন আর শুধু খেলা থাকে না, ৯০ মিনিটের জন্য সেটি হয়ে ওঠে একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্মিলিত অনুভূতি। ছোট ছোট শহর থেকে শুরু করে অসলোর ব্যস্ত রাস্তা, এমনকি হাসপাতালের করিডরেও তখন বিরাজ করছিল এক অদ্ভুত নীরবতা। টেলিভিশনের পর্দায় চোখ ছিল তিন প্রজন্মের মানুষের, যারা ১৯৯৮ সালের সেই স্মরণীয় ব্রাজিল জয়ের স্মৃতি আঁকড়ে কিংবা নতুন স্বপ্নের প্রত্যাশায় একযোগে তাকিয়ে ছিল মাঠের দিকে।

নরওয়ের এই যাত্রায় হলান্ড ছিলেন দলের প্রধান ভরসা। প্রতিপক্ষের বক্সে যখনই তিনি বল নিয়ে এগিয়ে যেতেন, সারা দেশের মানুষের নিঃশ্বাস যেন আটকে যেত। প্রতিটি ম্যাচে জয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নরওয়ের মানুষের স্বপ্ন বড় হতে থাকে এবং তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে ফুটবলের নির্মম বাস্তবতা হলো, স্বপ্ন যখন তুঙ্গে থাকে, তখনই তা সবচেয়ে বড় আঘাত হানে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ বাঁশি যখন বাজল, স্কোরবোর্ডে লেখা নরওয়ে ১-ইংল্যান্ড ২। এই পরাজয়ের ফলে মাঠের লড়াই শেষ হয়, আর সেই সঙ্গে শেষ হয় চার বছরের অপেক্ষার ফসল। হতাশায় কেউ টিভি বন্ধ করে দেন, কেউ বা স্তব্ধ হয়ে বসে থাকেন।

ম্যাচ শেষে অসলোর রাস্তায় আবার গাড়ির শব্দ শোনা যায়, রেস্তোরাঁগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে এবং জীবন তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে যায়। বিশ্বকাপের সেই ৯০ মিনিটে নরওয়ের মানুষের কাছে মনে হয়েছিল সবকিছু সত্যিই থেমে গেছে। তবে এই বিশ্বকাপ থেকে নরওয়ে একটি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। হলান্ডের এই দলটি যে স্মৃতি তৈরি করেছে, তা ভবিষ্যতে হয়তো কোনো বাবা তার সন্তানকে বলবে—২০২৬ সালে আমরা আবার স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং বিশ্বকাপে ফিরেছিলাম। ফুটবল ম্যাচ শেষ হলেও নরওয়ের ফুটবলের এই জাগরণ দীর্ঘস্থায়ী এক প্রভাব রেখে গেল।