ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লর্ডস টেস্টে স্মিথ-কক্সের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ক্যানসার আক্রান্ত দুই সন্তানের জননী আঁখির বাঁচতে প্রয়োজন সহায়তা অপপ্রচার রোধে মাঠে থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কুমিল্লায় চাঁদাবাজি ও সরকারি কাজে বাধার মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ প্রথম দিনেই শত কোটি আয় ছাড়াল যশের ‘টক্সিক’ কিংবদন্তি হলিউড অভিনেতা টিম কারি আর নেই, ৮০ বছর বয়সে প্রয়াণ ২০১৪-২০২৫: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর সাত ধরনের নিপীড়নের তথ্য প্রকাশ টানা দ্বিতীয় জয়ে লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের সিংহাসন ফিরে পেলেন পোলার্ড

টানা বৃষ্টি ও বেড়িবাঁধ ভাঙনে কুতুবদিয়া-পেকুয়ায় ভয়াবহ মানবিক সংকট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও বেড়িবাঁধ ভেঙে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত দুদিন বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও রবিবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে পানিবন্দি লাখো মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী, দক্ষিণ ধূরুং, উত্তর ধূরুং ও বড়ঘোপ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার সিংহভাগ ঘরবাড়ি এখনো পানির নিচে। বিশেষ করে বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে কোমর সমান পানি জমেছে এবং দ্বীপের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার টইটং, বারবাকিয়া, শিলখালী, উজানটিয়াসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ায় নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গত এলাকার মানুষের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোতে বাঁধ দিয়ে কিছু অসাধু চক্রের অবৈধভাবে মাছ শিকারের ফলেই এই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উজানটিয়ার বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীরা চারদিকে বাঁধ দিয়ে রাখায় পানি নামতে পারছে না। কুতুবদিয়ার কৃষক হারুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, এক সপ্তাহ ধরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেনি। ভুক্তভোগীদের দাবি, দুর্গত এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত শুকনো খাবার বা ত্রাণ পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান জানান, স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলো সচল রাখতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি ইউনিয়নের জন্য ইতিমধ্যেই ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

টানা বৃষ্টি ও বেড়িবাঁধ ভাঙনে কুতুবদিয়া-পেকুয়ায় ভয়াবহ মানবিক সংকট

আপডেট সময় : ১২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও বেড়িবাঁধ ভেঙে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত দুদিন বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও রবিবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে পানিবন্দি লাখো মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী, দক্ষিণ ধূরুং, উত্তর ধূরুং ও বড়ঘোপ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার সিংহভাগ ঘরবাড়ি এখনো পানির নিচে। বিশেষ করে বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে কোমর সমান পানি জমেছে এবং দ্বীপের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার টইটং, বারবাকিয়া, শিলখালী, উজানটিয়াসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ায় নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গত এলাকার মানুষের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোতে বাঁধ দিয়ে কিছু অসাধু চক্রের অবৈধভাবে মাছ শিকারের ফলেই এই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উজানটিয়ার বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীরা চারদিকে বাঁধ দিয়ে রাখায় পানি নামতে পারছে না। কুতুবদিয়ার কৃষক হারুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, এক সপ্তাহ ধরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেনি। ভুক্তভোগীদের দাবি, দুর্গত এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত শুকনো খাবার বা ত্রাণ পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান জানান, স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলো সচল রাখতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি ইউনিয়নের জন্য ইতিমধ্যেই ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh