টানা বৃষ্টি ও বেড়িবাঁধ ভাঙনে কুতুবদিয়া-পেকুয়ায় ভয়াবহ মানবিক সংকট
- আপডেট সময় : ১২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও বেড়িবাঁধ ভেঙে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত দুদিন বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও রবিবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে পানিবন্দি লাখো মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী, দক্ষিণ ধূরুং, উত্তর ধূরুং ও বড়ঘোপ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার সিংহভাগ ঘরবাড়ি এখনো পানির নিচে। বিশেষ করে বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে কোমর সমান পানি জমেছে এবং দ্বীপের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার টইটং, বারবাকিয়া, শিলখালী, উজানটিয়াসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ায় নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্গত এলাকার মানুষের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোতে বাঁধ দিয়ে কিছু অসাধু চক্রের অবৈধভাবে মাছ শিকারের ফলেই এই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উজানটিয়ার বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীরা চারদিকে বাঁধ দিয়ে রাখায় পানি নামতে পারছে না। কুতুবদিয়ার কৃষক হারুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, এক সপ্তাহ ধরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেনি। ভুক্তভোগীদের দাবি, দুর্গত এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত শুকনো খাবার বা ত্রাণ পৌঁছায়নি।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান জানান, স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলো সচল রাখতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি ইউনিয়নের জন্য ইতিমধ্যেই ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।





























