ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই দেশে ফিরুন: আসিফ নজরুল
- আপডেট সময় : ০৩:০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গত বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাসনে থাকা দলের নেতাদেরও তার সঙ্গে দেশে ফেরার আহ্বান জানান। এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল শনিবার দুপুর ২টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
‘স্বাগতম, শেখ হাসিনা’ শিরোনামের ওই স্ট্যাটাসে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল এবং বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে আগ্রহী।
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘যদি দেশে ফেরার বিষয়টি সত্য হয়, তবে দেরি করার কারণ নেই। বাংলাদেশের জনগণের সামনে এবং আদালতের সামনে আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আছে।’ তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে শত শত মানুষের প্রাণহানির দায়, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর, ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে শেখ হাসিনাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং বাংলাদেশকে ভারতের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত করার অভিযোগের বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
সাবেক এই আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে আগেই বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আপনার সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতির ভার বহন করতে হয়েছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মীকে, যারা আজও নানা মামলার মুখোমুখি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।’ পরিশেষে তিনি বলেন, যদি সত্যিই দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকে তবে আর বিলম্ব না করে ফিরে আসুন এবং আইনের মুখোমুখি হয়ে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরুন। অন্যথায়, বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে না ফেলার পরামর্শ দেন তিনি।





























