ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা গেন্ডারিয়াতে রহস্য জনক যুবকের মৃত্যু ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৫ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ কুমিল্লা জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা দিনাজপুরে নারী ও শিশু কন্যার প্রতি যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মহিলা পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ দিনাজপুরে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রেস ব্রিফিং দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন দালালদের খপ্পরে দিশেহারা রোগী রংপুরে বারো আউলিয়া এলাকায় আশানুরের গরুর আবাসিক হোটেল রংপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক-বালিকা ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সহযোদ্ধা ও পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া

দালালদের খপ্পরে দিশেহারা রোগী

মোঃ রাব্বি হাসান, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ রাব্বি হাসান
দিনাজপুর প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বর্তমানে একটি প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে সাধারণ রোগীরা আর্থিক প্রতারণা ও নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।সম্প্রতি উপশহরের গাউসুল আজম বিএনএসবি‌ চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে পাওয়া যায় দালাল চক্রের অবাধ বিচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন অভিযোগ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সকাল হলেই হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবাধ বিচরণ দালালদের।রোগীরা ডাক্তার দেখানোর শেষে হাসপাতাল থেকে বের হলেই শুরু হয় তাদের পেসক্রিপশন নিয়ে টানাহেঁচড়া। তাদেরকে কম পয়সায় সঠিক এবং ভালো মানের চশমা ও ওষুধ দেওয়ার মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ব্যবস্থাপত্রে দেওয়া চশমার পাওয়ার ঠিক না দিয়ে অন্য পাওয়ারের চশমা দিয়ে হাতিয়ে নেয় চড়া মূল্য। আর এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামের সহজ সরল ও অসহায় মানুষগুলো। বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিলেও, ঠেকানো যায়নি তাদের দৌড়াত্ম্য। এভাবে দিনের পর দিন দালালদের খপ্পরে পড়ে গ্রাম থেকে শহর হাসপাতালে চোখ দেখাতে আসা অনেক অসহায় মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায়ই।

পার্বতীপুর থেকে আসা আলামিন নামে এক রোগী বলেন, আমি বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল থেকে চোখ দেখিয়ে বের হওয়ার পর আমার ব্যবস্থাপত্র দেখার জন্য কতিপয় ব্যক্তি এগিয়ে এসে, আমি তাদের দেখতে না দিলে, আমার সামনে এক বৃদ্ধ মহিলাকে তার ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে জোড়াজুড়ি করে এবং ভালো মানের পাওয়ার চশমা দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি তার মৌখিক প্রতিবাদ করতে গেলে দালাল চক্রের সদস্যরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এছাড়াও তিনি বলেন সকল পেশার মানুষের জন্য সুনামধন্য এ প্রতিষ্ঠানে দূর দূরান্ত থেকে আসা কোন রুগি যেন দালালদের দ্বারা হয়রানির শিকার না হয় এবং এবং হাসপাতালের‌ প্রধান ফটক থেকে দুই তিন কিলোমিটারের মধ্যে কেউ যেন অবস্থান না করে , সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে নজর দেওয়ার আহবান জানান।

বিএনএসবি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার সাজেদুর রহমান বলেন, হাসপাতালের গেটে রোগীদের সচেতনার্থে মাইক লাগিয়ে হাসপাতালের স্টাফ ছাড়া দালাল বা বহিরাগত কারো কাছ থেকে কোন ধরনের সুবিধা এবং খপ্নরে পরে ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার বা নেওয়ার বারবার প্রচার প্রচারণা চালালেও কিছুতেই কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না দালালদের দৌরাত্ম।

এ বিষয়ে গাউসুল আজম বি এনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক‌ ডাঃ‌ চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী বলেন দীর্ঘদিন যাবত দালালরা এই কাজটি করে আসছে। তাদের বাধা দিলে তারা চক্ষু হাসপাতালের স্টাফদের সাথে বিরূপ আচরণ ও মারমুখী হয়ে উঠে। এই দালালরা চক্ষু হাসপাতালের স্টাফদের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে, পায়ে পা লাগিয়ে গন্ডগোল করার পায়তারা করে। এক নারী স্টাফের সাথেও দালাল চক্রের এক সদস্য অসদাচরণ করেছে। এ বিষয়ে সে লিখিত অভিযোও করেন। দালালদের এই রূপ কর্মকাণ্ড নিয়ে জেলা প্রশাসকেও‌ অবগত করা হয়েছে।

তবে দালালদের দৌরাত্ম্যে একদিকে যেমন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন ,অন্যদিকে রোগীদের দিনের পর দিন হয়রানি, সচেতন মহল সাড়া দিলেও হচ্ছে না এদের প্রতিকার।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দালালদের দৌরাত্ম্য নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

দালালদের খপ্পরে দিশেহারা রোগী

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
print news

মোঃ রাব্বি হাসান
দিনাজপুর প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বর্তমানে একটি প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে সাধারণ রোগীরা আর্থিক প্রতারণা ও নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।সম্প্রতি উপশহরের গাউসুল আজম বিএনএসবি‌ চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে পাওয়া যায় দালাল চক্রের অবাধ বিচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন অভিযোগ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সকাল হলেই হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবাধ বিচরণ দালালদের।রোগীরা ডাক্তার দেখানোর শেষে হাসপাতাল থেকে বের হলেই শুরু হয় তাদের পেসক্রিপশন নিয়ে টানাহেঁচড়া। তাদেরকে কম পয়সায় সঠিক এবং ভালো মানের চশমা ও ওষুধ দেওয়ার মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ব্যবস্থাপত্রে দেওয়া চশমার পাওয়ার ঠিক না দিয়ে অন্য পাওয়ারের চশমা দিয়ে হাতিয়ে নেয় চড়া মূল্য। আর এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামের সহজ সরল ও অসহায় মানুষগুলো। বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিলেও, ঠেকানো যায়নি তাদের দৌড়াত্ম্য। এভাবে দিনের পর দিন দালালদের খপ্পরে পড়ে গ্রাম থেকে শহর হাসপাতালে চোখ দেখাতে আসা অনেক অসহায় মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায়ই।

পার্বতীপুর থেকে আসা আলামিন নামে এক রোগী বলেন, আমি বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল থেকে চোখ দেখিয়ে বের হওয়ার পর আমার ব্যবস্থাপত্র দেখার জন্য কতিপয় ব্যক্তি এগিয়ে এসে, আমি তাদের দেখতে না দিলে, আমার সামনে এক বৃদ্ধ মহিলাকে তার ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে জোড়াজুড়ি করে এবং ভালো মানের পাওয়ার চশমা দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি তার মৌখিক প্রতিবাদ করতে গেলে দালাল চক্রের সদস্যরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এছাড়াও তিনি বলেন সকল পেশার মানুষের জন্য সুনামধন্য এ প্রতিষ্ঠানে দূর দূরান্ত থেকে আসা কোন রুগি যেন দালালদের দ্বারা হয়রানির শিকার না হয় এবং এবং হাসপাতালের‌ প্রধান ফটক থেকে দুই তিন কিলোমিটারের মধ্যে কেউ যেন অবস্থান না করে , সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে নজর দেওয়ার আহবান জানান।

বিএনএসবি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার সাজেদুর রহমান বলেন, হাসপাতালের গেটে রোগীদের সচেতনার্থে মাইক লাগিয়ে হাসপাতালের স্টাফ ছাড়া দালাল বা বহিরাগত কারো কাছ থেকে কোন ধরনের সুবিধা এবং খপ্নরে পরে ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার বা নেওয়ার বারবার প্রচার প্রচারণা চালালেও কিছুতেই কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না দালালদের দৌরাত্ম।

এ বিষয়ে গাউসুল আজম বি এনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক‌ ডাঃ‌ চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী বলেন দীর্ঘদিন যাবত দালালরা এই কাজটি করে আসছে। তাদের বাধা দিলে তারা চক্ষু হাসপাতালের স্টাফদের সাথে বিরূপ আচরণ ও মারমুখী হয়ে উঠে। এই দালালরা চক্ষু হাসপাতালের স্টাফদের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে, পায়ে পা লাগিয়ে গন্ডগোল করার পায়তারা করে। এক নারী স্টাফের সাথেও দালাল চক্রের এক সদস্য অসদাচরণ করেছে। এ বিষয়ে সে লিখিত অভিযোও করেন। দালালদের এই রূপ কর্মকাণ্ড নিয়ে জেলা প্রশাসকেও‌ অবগত করা হয়েছে।

তবে দালালদের দৌরাত্ম্যে একদিকে যেমন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন ,অন্যদিকে রোগীদের দিনের পর দিন হয়রানি, সচেতন মহল সাড়া দিলেও হচ্ছে না এদের প্রতিকার।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দালালদের দৌরাত্ম্য নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।