ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ৫ জনের কারাদণ্ড সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার রাজধানীতে ৩ দিনে ট্রেনের ধাক্কায় ৪ জনের মৃত্যু টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে গ্রেনেড, গুলি, গাঁজা উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রেমিকাকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ প্রেমিক সহ গ্রেফতার-৩ সকাল ৯টায় অফিস, কিন্তু সাড়ে ৯টায়ও খোঁজ নেই অধিকাংশ কর্মকর্তার আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ঢাকায় আমজাদহাট সোসাইটির ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা ছাগলনাইয়া মানারাত হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু মুগদায় হানি ট্র্যাপ থেকে কিশোর গ্যাং অপরাধ চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

জলাবদ্ধতায় স্থবির জীবন: ক্ষোভে ফুঁসছে রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডবাসী

মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ৪০৪ বার পড়া হয়েছে

জলাবদ্ধতায় স্থবির জীবন: ক্ষোভে ফুঁসছে রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডবাসী

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার

নারায়ণগঞ্জ জেলার, রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড যেন জলাবদ্ধতার শহরে রূপ নিয়েছে। একটানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ওয়ার্ডের মোগরাকুল, রসুলপুর, কামালনগর ও বরাবো এলাকার রাস্তাঘাট, দোকানপাট, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই এলাকাগুলোর চিত্র যেন নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবার ক্ষোভ যেন সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

রাস্তা-ঘাট তলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কৃষি

সাধারণ বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়—এটা যেন এখন স্থানীয়দের নিত্যদিনের বাস্তবতা। দোকানদারদের দাবি, প্রতিটি বৃষ্টির দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দোকান বন্ধ রাখতে হয়। ক্রেতা নেই, বিক্রি নেই, অথচ ক্ষতির বোঝা বাড়ছে প্রতিদিন। অন্যদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে পুকুরের মাছ ও আশপাশের কৃষিজমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা।

ডাইং কারখানার বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়

স্থানীয়রা জানান, আশপাশের কয়েকটি ডাইং ও গার্মেন্টস কারখানা নিয়মিতভাবে তাদের রাসায়নিকযুক্ত দূষিত পানি নতুনভাবে নির্মিত ড্রেনের মাধ্যমে নির্দ্বিধায় ফেলে দিচ্ছে পাশের পুকুরে ও খালে। এতে করে পানির রং বদলে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, মাছ মরছে, আর মানুষের ত্বক ও শ্বাসজনিত সমস্যা বাড়ছে।

বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই দূষণ এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। অনেকেই চর্মরোগ, চোখ জ্বালা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় নাগরিক হতাশা চরমে

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিগত ১৭ বছরে তারাবো পৌরসভার পক্ষ থেকে ড্রেনেজ, রাস্তা বা খাল সংস্কারে কোনো কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি পানিউন্নয়ন বোর্ডের পাম্প স্টেশনেও নেই আধুনিক পাম্পিং সিস্টেম, যা অতিরিক্ত পানি অপসারণ করতে পারে। ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা তাদের নিয়তির অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

‘নামেই এক নম্বর পৌরসভা’, বাস্তবে শূন্য নাগরিক সুবিধা

এলাকাবাসীর কণ্ঠে স্পষ্ট হতাশা—“তারাবো পৌরসভা নামেই এক নম্বর, বাস্তবে শূন্য সুবিধা।” স্থানীয়রা জানান, কোটি কোটি টাকা কর দেওয়া সত্ত্বেও মেলে না সুপেয় পানি, পাকা রাস্তা, স্বাস্থ্যসম্মত ড্রেন বা পরিবেশবান্ধব নিষ্কাশন ব্যবস্থা। নাগরিক সুবিধা না পেয়ে বাসিন্দারা এখন মনে করছেন, পৌর কর্তৃপক্ষ শুধু রাজস্ব আদায়েই ব্যস্ত, জনদুর্ভোগের বিষয়ে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

লিখিত আবেদন পৌরসচিব বরাবর, দাবি স্থায়ী সমাধানের

জলাবদ্ধতা ও দূষণের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্প্রতি তারাবো পৌরসভার সচিব বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন—
১. অবিলম্বে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পাম্পিং সিস্টেম চালু,
২. ডাইং কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর ব্যবস্থা,
৩. রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার এবং খাল পুনঃখনন,
৪. স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন ও সচেতনতা কার্যক্রম চালু।

এখন সময় এসেছে রূপগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডের নাগরিক দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার। একদিকে প্রকৃতির প্রকোপ, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থা—দুটির চাপে অতিষ্ঠ জনগণ আর সহ্য করতে চাইছে না। তারা চায় বাস্তবভিত্তিক, পরিকল্পিত এবং দ্রুত কার্যকরী সমাধান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

জলাবদ্ধতায় স্থবির জীবন: ক্ষোভে ফুঁসছে রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডবাসী

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
print news

মোঃ ইসমাইল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার

নারায়ণগঞ্জ জেলার, রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড যেন জলাবদ্ধতার শহরে রূপ নিয়েছে। একটানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ওয়ার্ডের মোগরাকুল, রসুলপুর, কামালনগর ও বরাবো এলাকার রাস্তাঘাট, দোকানপাট, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই এলাকাগুলোর চিত্র যেন নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবার ক্ষোভ যেন সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

রাস্তা-ঘাট তলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কৃষি

সাধারণ বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়—এটা যেন এখন স্থানীয়দের নিত্যদিনের বাস্তবতা। দোকানদারদের দাবি, প্রতিটি বৃষ্টির দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দোকান বন্ধ রাখতে হয়। ক্রেতা নেই, বিক্রি নেই, অথচ ক্ষতির বোঝা বাড়ছে প্রতিদিন। অন্যদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে পুকুরের মাছ ও আশপাশের কৃষিজমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা।

ডাইং কারখানার বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়

স্থানীয়রা জানান, আশপাশের কয়েকটি ডাইং ও গার্মেন্টস কারখানা নিয়মিতভাবে তাদের রাসায়নিকযুক্ত দূষিত পানি নতুনভাবে নির্মিত ড্রেনের মাধ্যমে নির্দ্বিধায় ফেলে দিচ্ছে পাশের পুকুরে ও খালে। এতে করে পানির রং বদলে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, মাছ মরছে, আর মানুষের ত্বক ও শ্বাসজনিত সমস্যা বাড়ছে।

বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই দূষণ এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। অনেকেই চর্মরোগ, চোখ জ্বালা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় নাগরিক হতাশা চরমে

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিগত ১৭ বছরে তারাবো পৌরসভার পক্ষ থেকে ড্রেনেজ, রাস্তা বা খাল সংস্কারে কোনো কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি পানিউন্নয়ন বোর্ডের পাম্প স্টেশনেও নেই আধুনিক পাম্পিং সিস্টেম, যা অতিরিক্ত পানি অপসারণ করতে পারে। ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা তাদের নিয়তির অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

‘নামেই এক নম্বর পৌরসভা’, বাস্তবে শূন্য নাগরিক সুবিধা

এলাকাবাসীর কণ্ঠে স্পষ্ট হতাশা—“তারাবো পৌরসভা নামেই এক নম্বর, বাস্তবে শূন্য সুবিধা।” স্থানীয়রা জানান, কোটি কোটি টাকা কর দেওয়া সত্ত্বেও মেলে না সুপেয় পানি, পাকা রাস্তা, স্বাস্থ্যসম্মত ড্রেন বা পরিবেশবান্ধব নিষ্কাশন ব্যবস্থা। নাগরিক সুবিধা না পেয়ে বাসিন্দারা এখন মনে করছেন, পৌর কর্তৃপক্ষ শুধু রাজস্ব আদায়েই ব্যস্ত, জনদুর্ভোগের বিষয়ে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

লিখিত আবেদন পৌরসচিব বরাবর, দাবি স্থায়ী সমাধানের

জলাবদ্ধতা ও দূষণের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্প্রতি তারাবো পৌরসভার সচিব বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন—
১. অবিলম্বে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পাম্পিং সিস্টেম চালু,
২. ডাইং কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর ব্যবস্থা,
৩. রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার এবং খাল পুনঃখনন,
৪. স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন ও সচেতনতা কার্যক্রম চালু।

এখন সময় এসেছে রূপগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডের নাগরিক দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার। একদিকে প্রকৃতির প্রকোপ, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থা—দুটির চাপে অতিষ্ঠ জনগণ আর সহ্য করতে চাইছে না। তারা চায় বাস্তবভিত্তিক, পরিকল্পিত এবং দ্রুত কার্যকরী সমাধান।