ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বেলুচিস্তানে ট্রেনে জঙ্গি হামলা: ১০৪ যাত্রী উদ্ধার, নিহত ১৬ জঙ্গি

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

বেলুচিস্তানে ট্রেনে জঙ্গি হামলা: ১০৪ যাত্রী উদ্ধার, নিহত ১৬ জঙ্গি

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বোলান এলাকায় ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে কোয়েটা-পেশোয়ার রুটের জাফর এক্সপ্রেস। মঙ্গলবার ট্রেনটিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। স্থানীয় গনমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা এ খবর জানিয়েছে।

হামলার সময় ট্রেনে প্রায় ৪০০ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে শতাধিক পাকিস্তানি সেনাও ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযানে অন্তত ১০৪ জন যাত্রীকে মুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। অভিযানে বিএলএ-র ১৬ জন সদস্য নিহত হয়েছে।

হামলার শুরু ও বিস্ফোরণ:

বোলান এলাকায় পৌঁছানোর পর ট্রেনটির ওপর ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে হামলাকারীরা। একই সঙ্গে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ট্রেনটি আটকে দেওয়া হয়। হামলার পরপরই যাত্রীদের জিম্মি করে বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। দাবি না মানলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মিদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও উদ্ধারকাজ:

হামলার পরপরই পাকিস্তানি সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। বুধবার সকাল পর্যন্ত চলা অভিযানে ১০৪ জন যাত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১ জন শিশু, ২৬ জন নারী ও ৪৩ জন পুরুষ রয়েছেন। আহত ১৭ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এখনো বহু যাত্রী জিম্মি রয়েছে বলে জানা গেছে, এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জঙ্গিরা নারী ও শিশুদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করায় অভিযান চালাতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

জিম্মিদের আতঙ্ক ও মুক্তিপ্রাপ্তদের অভিজ্ঞতা:

মুক্তিপ্রাপ্ত যাত্রী মুহাম্মদ বিলাল তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “কীভাবে পালিয়ে এসেছি, তা বলার ভাষা নেই। ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা।”

অন্য এক যাত্রী আল্লাদিত্তা জানান, তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “হামলার সময় ট্রেনের সবাই আতঙ্কে নিজেদের আসনের নিচে লুকিয়ে পড়েন।”

একজন রেল কর্মকর্তা জানান, ট্রেনটি এখনো পাহাড়বেষ্টিত এক টানেলের সামনে আটকে আছে, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। ফলে জিম্মিদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।

বিএলএ-র হুমকি ও বেলুচিস্তানের প্রেক্ষাপট:

বালুচ লিবারেশন আর্মি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে উন্নয়নবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও, পাকিস্তান সরকার বিএলএ-কে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বিএলএ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বন্দিদের মুক্তি না দিলে পাকিস্তান সরকারকে ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।

পরিবারের উৎকণ্ঠা ও সরকারের পদক্ষেপ:

এখনো যারা জিম্মি রয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। কোয়েটা রেলস্টেশনে ভিড় করে অনেকে তাদের স্বজনদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের প্রথম লক্ষ্য যাত্রীদের নিরাপদ উদ্ধার। অভিযানে যাতে নিরীহ যাত্রীদের ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে বারবার হামলা চালানো হচ্ছে।

তবে মঙ্গলবারের এই হামলা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা, যা পুরো দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

বেলুচিস্তানে ট্রেনে জঙ্গি হামলা: ১০৪ যাত্রী উদ্ধার, নিহত ১৬ জঙ্গি

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
print news

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বোলান এলাকায় ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে কোয়েটা-পেশোয়ার রুটের জাফর এক্সপ্রেস। মঙ্গলবার ট্রেনটিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। স্থানীয় গনমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা এ খবর জানিয়েছে।

হামলার সময় ট্রেনে প্রায় ৪০০ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে শতাধিক পাকিস্তানি সেনাও ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযানে অন্তত ১০৪ জন যাত্রীকে মুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। অভিযানে বিএলএ-র ১৬ জন সদস্য নিহত হয়েছে।

হামলার শুরু ও বিস্ফোরণ:

বোলান এলাকায় পৌঁছানোর পর ট্রেনটির ওপর ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে হামলাকারীরা। একই সঙ্গে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ট্রেনটি আটকে দেওয়া হয়। হামলার পরপরই যাত্রীদের জিম্মি করে বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। দাবি না মানলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মিদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও উদ্ধারকাজ:

হামলার পরপরই পাকিস্তানি সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। বুধবার সকাল পর্যন্ত চলা অভিযানে ১০৪ জন যাত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১ জন শিশু, ২৬ জন নারী ও ৪৩ জন পুরুষ রয়েছেন। আহত ১৭ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এখনো বহু যাত্রী জিম্মি রয়েছে বলে জানা গেছে, এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জঙ্গিরা নারী ও শিশুদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করায় অভিযান চালাতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

জিম্মিদের আতঙ্ক ও মুক্তিপ্রাপ্তদের অভিজ্ঞতা:

মুক্তিপ্রাপ্ত যাত্রী মুহাম্মদ বিলাল তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “কীভাবে পালিয়ে এসেছি, তা বলার ভাষা নেই। ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা।”

অন্য এক যাত্রী আল্লাদিত্তা জানান, তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “হামলার সময় ট্রেনের সবাই আতঙ্কে নিজেদের আসনের নিচে লুকিয়ে পড়েন।”

একজন রেল কর্মকর্তা জানান, ট্রেনটি এখনো পাহাড়বেষ্টিত এক টানেলের সামনে আটকে আছে, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। ফলে জিম্মিদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।

বিএলএ-র হুমকি ও বেলুচিস্তানের প্রেক্ষাপট:

বালুচ লিবারেশন আর্মি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে উন্নয়নবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও, পাকিস্তান সরকার বিএলএ-কে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বিএলএ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বন্দিদের মুক্তি না দিলে পাকিস্তান সরকারকে ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।

পরিবারের উৎকণ্ঠা ও সরকারের পদক্ষেপ:

এখনো যারা জিম্মি রয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। কোয়েটা রেলস্টেশনে ভিড় করে অনেকে তাদের স্বজনদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের প্রথম লক্ষ্য যাত্রীদের নিরাপদ উদ্ধার। অভিযানে যাতে নিরীহ যাত্রীদের ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে বারবার হামলা চালানো হচ্ছে।

তবে মঙ্গলবারের এই হামলা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা, যা পুরো দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।