স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হামলা, মামলায় ঘরছাড়া প্রবাসী পরিবার।
- আপডেট সময় : ০৩:১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫ ১৫৯০ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু, ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:
ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধাকে হামলার ও হত্যার হুমকির পর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে গত ৬ই মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে সবুরা বেগম (৭৫) বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সূএে জানা যায়, আমজাদ হাট ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা সবুরা বেগমের তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আবুল বাশারের স্ত্রীর ভাই লিয়াকত আলী, তিনি প্রায়ই তাদের বাড়িতে এসে পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি করার জন্য চাপ দেয়। সম্পত্তির প্রায় ৫ শতক জমি বন্ধক থাকায় তা ভাগ করা সম্ভব হচ্ছিল না, ছেলেরা তা জমি বন্ধক মুক্ত করছিল না, লিয়াকত আলী জোর পূর্বক বন্ধক দারকে হটিয়ে নিজের ভগ্নিপতিকে দিয়ে তা জবর দখল করার চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগ সূএে জানা, ২০০০ সালে পারিবারিক বিরোধ কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের স্ত্রী শাহেদা আক্তার ও মেজো ভাই আবদুল্লাহ আল বাবলুর ঝগড়া হলে লিয়াকত আলী তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে ছবুরা খাতুনের পরিবারের ৫ জনের নামে ৩টি মামলা করে। এখন মামলার মীমাংসা ও চিকিৎসা খরচের নামে ১০ লাখ টাকা বা ৩০ শতক জমি দাবি করেছেন লিয়াকত আলী, বর্তমানে লিয়াকতের ভয়ে দুই ভাই আবদুল্লাহ আল বাবু ও আবদুল্লাহ আল বাবলু প্রবাসে বসবাস করছে, তাদের পরিবার ভয়ে দিন কাটাচ্ছে শ্বশুর বাড়িতে।
গত ৬ই মার্চ বৃহস্পতিবার ছবুরা বেগম বলেন, লিয়াকত আলী গত ৪ মার্চ আমার বাড়ির উঠানে এসে আমাকে ও আমার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে, ১০ লাখ টাকা পরিশোধ না করলে বাড়িতে থাকতে দেবে না বলেছে এবং মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছে, বর্তমানে আমি তার ভয়ে আতংকিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।
কাজল নামে স্থানীয় এক মহিলা অভিযোগ করে বলেন, ১৫ বছর আগে ছবুরা বেগমের স্বামী আবুল খায়ের কালা মিয়া তাঁর সম্পত্তি বন্ধক রেখে আমাদের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেন। গত বুধবার লিয়াকত আলী আমার স্বামী আবদুল হালিমকে মারধর করেন, তিনি বলেন কোন টাকা নাকি আমরা পাব না, তাড়াতাড়ি তাঁর বোনের জামাইকে বন্ধকী জমি ফিরিয়ে দিতে বলে।
স্থানীয় মোঃ সিরাজ জানান, ছবুরা বেগমের তিন ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি বণ্টন করার জন্য একাধিকবার আমরা সামাজিকভাবে সালিসি বৈঠকে বসি, কিন্তু ছবুরা বেগমের বড় ছেলের বৌ ও তাঁর ভাই লিয়াকত আলী কারণে এই সমস্যার সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।
প্রবাসী আবদুল্লাহ আল বাবলু বলেন, আগেও লিয়াকত আলী বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার মা, বোন, ভাই ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেছে এবং হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ছোট বোনের পরিবারকে এক ধরনের জিম্মি করে সুকৌশলে হামলা, মামলা ও হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করছেন লিয়াকত আলী। গত ৫ বছর যাবৎ তাঁরা অহেতুক আমার ওপর অমানবিক ভাবে অত্যাচার, নির্যাতন করে আসছে।
আমজাদ হাট ইউনিয়ন কিছু স্থানীয় জানান ৫ই আগষ্টের পর থেকে বিএনপি নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে বড় লোক ও প্রবাসি টারর্গেট করে এবং তাঁদের কাছে জোর পূর্বক টাকা চাঁদা দাবি করেন লিয়াকত আলী, কথায় কথায় সাধারন মানুষের গায়ে হাত তুলে এবং মামলা করে জেলে ডুকিয়ে দেবে এই হুমকি দে সব সময় বিএনপি ক্ষমতা দেখাতো কথায় কথায় বলে দেশ এখন আমাদের হাতে আমরা যা বলবো তাই হবে,
স্থানীয় আরো বলেন, বিএনপি এখনো ক্ষমতায় আসেনি সামনে কোন দল আসবে তাঁর কোন ঠিক নেই, বিএনপি ক্ষমতা আসার আগে লিয়াকত আলী এভাবে ক্ষমতার প্রভাব খাটাচ্ছেন আর বিএনপি ক্ষমতা আসলে আমজাদ হাট ইউনিয়ন মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবেনা লিয়াকত আলী হাতে জিম্মি থাকতে হবে।
বিএনপি নেতারা কি লিয়াকত আলীকে এই ক্ষমতা দিয়েছে যে সাধারন মানুষের সাথে ক্ষমতা দেখিয়ে জুলুম করতে, স্থানীয় বলেন লিয়াকত আলী এই কাজ গুলো করে আমজাদ হাট ইউনিয়ন ও ফুলগাজী উপজেলার সকল বিএনপি নেতা জানে তারপর কিছু বলেন না লিয়াকত আলীকে নিশ্চয়ই বিএনপি নেতারা লিয়াকত আলী কোন সূএ তো আছে, নাহলে লিয়াকত আলী যে সব কাজ করেন বিএনপি ক্ষমতা দেখিয়ে লিয়াকত আলীকে বিএনপি দল থেকে বহিষ্কার করেন না কেন বরং লিয়াকত আলীকে বিএনপির একটি পদ-পদবী দিয়ে রেখেছে তাই লিয়াকত আলী ক্ষমতার ব্যবহার করছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত লিয়াকত আলী বলেন, আমি বোনের শাশুড়ির কাছে চাঁদা দাবি করিনি, এর আগে তাঁরা তাঁদের সম্পত্তি ভাগাভাগি কেন্দ্র করে আমার বোনকে বেধড়ক পেটায়, হামলার ঘটনায় জড়িত আমার বোনের দেবর, শাশুড়ি ও অন্য সদস্যদের নামে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা করি, যা বিচারাধীন রয়েছে।
ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।


























