নাগোয়ায় জমকালো আয়োজনে শুরু হলো ২০তম এশিয়ান গেমস
- আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

নাগোয়ার আকাশে সন্ধ্যার আলো ফুরিয়ে আসার মুহূর্তে পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামের আলোকসজ্জা জ্বলে উঠতেই এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়। মাঠের মাঝখানে হৃদয়াকৃতির বিশাল মঞ্চে সুর ও ছন্দের মূর্ছনায় যেন পুরো এশিয়া জেগে ওঠে। ৪৫টি দেশের কণ্ঠ, সংস্কৃতি ও স্বপ্নকে এক সুতোয় বাঁধার লক্ষ্য নিয়ে ‘হারমনিক হার্ট বিট’ বা হৃদয়ের সুরেলা স্পন্দন মূলভাবনায় পর্দা উঠল এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের। জাপানের ঐতিহ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে একীভূত করে আয়োজকরা এই মহাদেশীয় ক্রীড়া উৎসবকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
৩২ বছর পর জাপানে ফিরেছে এশিয়ান গেমস। ১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমার পর এবার তৃতীয়বারের মতো জাপান এই আসরের আয়োজক। সংস্কার করা পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য স্থায়ী ৩০ হাজার আসনের পাশাপাশি অস্থায়ী আসনও যুক্ত করা হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকতার আগে জাপানের বিমান বাহিনীর ‘ব্লু ইমপালস’ আকাশে বিমানের রেখায় বিশাল হৃদয়ের আকৃতি তৈরি করে দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বেহালাবাদক তারো হাকাসের সুরের সঙ্গে নাগোয়া ও আইচির ২৪০ জন স্থানীয় নৃত্যশিল্পী চারটি দলে বিভক্ত হয়ে জীবন ও পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতীকী পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। এরপর জাপানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার পর শুরু হয় ক্রীড়াবিদদের বর্ণিল পদযাত্রা। বাংলাদেশের পতাকা হাতে দলের সামনে ছিলেন শুটার আবদুল্লাহ হিল বাকি ও কারাতেকা হুমাইরা আক্তার অন্তরা। গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস কিছুটা সংযত থাকলেও প্রতিটি দেশের প্রবেশের সময় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল।
প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত গায়ক এবং ডিজিটাল প্রক্ষেপণের মাধ্যমে জাপানের অতীত ও ভবিষ্যতের রূপকল্প ফুটিয়ে তোলা হয়। আইচি প্রিফেকচারের শিল্প ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে টয়োটার বিশেষ যান প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি, অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি এবং জাপানের সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকো উপস্থিত ছিলেন। সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
মশাল প্রজ্জ্বলন পর্বটি ছিল অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগময় মুহূর্ত। ২২ আগস্ট শুরু হওয়া মশালযাত্রা ৪০টি পৌরসভা ও ১৬টি ওয়ার্ড ঘুরে মিজুহো স্টেডিয়ামে পৌঁছায়। কিংবদন্তি হ্যামার থ্রোয়ার শিগেনোবু মুরোফুশি এবং তার ছেলে, ২০০৪ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোজি মুরোফুশি যৌথভাবে মশাল জ্বালিয়ে আসরের মূল শিখা প্রজ্বলন করেন। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে উদিত হয়। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নাগোয়া ও আইচির বিভিন্ন ভেন্যুতে ৪৫টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রায় ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ ৪৩টি খেলায় পদক জয়ের লড়াইয়ে নামবেন। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি ও বাস্কেটবলের মতো কিছু ইভেন্টের খেলা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।



























