এশিয়ান গেমসে দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে বাজল উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত
- আপডেট সময় : ০২:৫০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

জাপানে চলমান ২০২৬ এশিয়ান গেমসে একের পর এক প্রশাসনিক ও লজিস্টিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এবার বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার পুরুষদের হকি ম্যাচের আগে ঘটে গেল এক চরম বিব্রতকর ঘটনা। গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর প্রাক্কালে নিয়ম অনুযায়ী দুই দলের খেলোয়াড়েরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংগীতের পরিবর্তে ভুলবশত বাজিয়ে দেওয়া হয় উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়েরা চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি অনুধাবন করে স্টেডিয়ামের অ্যানাউন্সার তাৎক্ষণিকভাবে মাইকে সবার কাছে ক্ষমা চান। দক্ষিণ কোরিয়ার দল ও গ্যালারির দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত, সত্যিই অত্যন্ত লজ্জিত। রিপাবলিক অব কোরিয়ার জাতীয় সংগীতের জায়গায় আমরা ভুলবশত অন্য গান বাজিয়ে ফেলেছিলাম। এর জন্য আমি সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী।’
দুই কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে এই ভুলটি কেবল সাধারণ সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা যুদ্ধের পর কোনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি ছাড়াই কেবল একটি অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে সংঘাত থামে। ফলে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও বিদ্যমান। এই সংবেদনশীল সম্পর্কের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, যা আয়োজকদের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে।
অবশ্য মাঠের খেলায় এই বিব্রতকর ঘটনার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দলটি।
জাতীয় সংগীত নিয়ে এই নজিরবিহীন ভুলটি ২০২৬ এশিয়ান গেমসের অব্যবস্থাপনার সর্বশেষ উদাহরণ মাত্র। গেমসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর আগেই আয়োজকদের লজিস্টিক পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। মূলত খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে এবার অ্যাথলেটদের জন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ‘গেমস ভিলেজ’ রাখা হয়নি। এর বদলে খেলোয়াড়দের ক্রুজ শিপ, কনটেইনার হোটেল এবং সাধারণ বাণিজ্যিক হোটেলে রাখা হয়েছে। এই বিকল্প ব্যবস্থার কারণে জাপানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলকে আবাসন ও লজিস্টিক সুবিধা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।





























