বেটিং তদন্তে ফোন জব্দ, লাহোর হাইকোর্টে ধাক্কা খেয়ে আইসিসিতে রিজওয়ান
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের মুঠোফোনটি এখনো তাঁর কাছে নেই। ইংল্যান্ড সফরের সময় দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) ফোনটি জব্দ করার পর তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাকিস্তানে নিয়ে যায়। এই ফোন জব্দ করার প্রক্রিয়া ও এনসিসিআইএর নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছিলেন রিজওয়ান। তবে লাহোর হাইকোর্ট তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত থেকে ধাক্কা খাওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শরণাপন্ন হয়েছেন এই পাকিস্তানি উইকেটকিপার-ব্যাটার।
গত বৃহস্পতিবার লাহোর হাইকোর্টে রিজওয়ানের আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় রিজওয়ানের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম আইনজীবীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শেষ পর্যন্ত রিজওয়ানের আবেদনটি খারিজ করে দেন।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে কেন্দ্র করে। টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ তথ্য বাইরে পাচার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে পাকিস্তানের সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংস্থা এনসিসিআইএ। তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে লাহোরের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে রিজওয়ান ও টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচের সময় তাঁরা কার কার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
মূলত অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ হিসেবেই এনসিসিআইএ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে শুরু থেকেই এই তলবের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন রিজওয়ান। তাঁর দাবি, এনসিসিআইএর নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ে তদন্তের কথা বলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের উল্লেখ ছিল না। এমনকি সশরীরে হাজির হয়ে অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চাইলেও তদন্তকারী সংস্থা থেকে তাঁকে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি। আর এ কারণেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
আদালত থেকে বিমুখ হয়ে রিজওয়ান এখন আইসিসির অ্যান্টি–করাপশন ইউনিটের কাছে কিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তাঁর ফোনটি জব্দ করা, সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষা করার পুরো প্রক্রিয়ার বিষয়ে আইসিসি কিংবা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আগে থেকে কিছু জানত কি না বা তারা এতে জড়িত ছিল কি না, তা জানতে চেয়েছেন তিনি। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিজওয়ানের এই পদক্ষেপ কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ নয়। বরং তিনি নিশ্চিত হতে চান যে, পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ধারা মেনে করা হয়েছে কি না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাঁর কী করণীয়, সে বিষয়েও তিনি আইসিসির দিকনির্দেশনা চেয়েছেন।
এদিকে, রিজওয়ানের ফোনটি জব্দ করার আগে তা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হেফাজতে ছিল। পরে পরীক্ষার জন্য সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চলমান তদন্তের কারণে পিসিবি অবশ্য এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে এই বিতর্ক ও তদন্তের মধ্যেই পাকিস্তান টেস্ট দলে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে পরাজয়ের পর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সময়ে দলটির প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।





























