যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে যেভাবে বদলে গেছে মেসির গোল করার ধরন
- আপডেট সময় : ১২:১১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের দীর্ঘ দুই দশকে মাথার চেয়ে পায়ের জাদু বেশি দেখেছে বিশ্ব। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর এই চিত্রপটে এসেছে এক বড় পরিবর্তন। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে তাঁর হেডে গোল করার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। সম্প্রতি ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ম্যাচে মায়ামির হয়ে নিজের শততম গোলটি করার পাশাপাশি হেডে ষষ্ঠ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।
মেসির ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। বার্সেলোনার মূল দলে কাটানো ১৭ বছরে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৭২টি গোল করেছিলেন তিনি, যার মধ্যে হেডে ছিল মাত্র ২৪টি। অর্থাৎ স্প্যানিশ ক্লাবটিতে তাঁর মোট গোলের মাত্র ৩.৫৭ শতাংশ এসেছে মাথার সাহায্যে, যেখানে ৮২.৮৯ শতাংশ বা ৫৫৭টি গোলই ছিল তাঁর বাঁ পায়ের জাদুতে। এরপর পিএসজিতে দুই মৌসুমে ৩২টি গোল করলেও সেখানে কোনো হেডের গোল ছিল না, যার মধ্যে ২৮টিই ছিল বাঁ পায়ে। এমনকি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে করা ১২৫টি গোলের মধ্যে মাত্র ২টি এসেছে হেডে, আর ১১১টি ছিল বাঁ পায়ে।
অথচ ইন্টার মায়ামিতে আসার পর মেসির হেডে গোলের হার দাঁড়িয়েছে ৬ শতাংশে। মায়ামির হয়ে শততম গোলের মধ্যে ৬টিই এসেছে হেডের মাধ্যমে। এই পরিবর্তনের পেছনে মেসির খেলার ধরন ও ভূমিকার পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্সেলোনার সোনালি সময়ে জাভি, ইনিয়েস্তা ও বুসকেতসদের নিয়ে গড়া তিকিতাকা কৌশলে বল মাটিতেই বেশি থাকত। মেসি তখন নিচে নেমে বল নিয়ে আক্রমণ তৈরি ও ড্রিবলিংয়ে ব্যস্ত থাকতেন, ফলে বক্সে ক্রস থেকে হেডের সুযোগ পেতেন কম।
মায়ামিতে মেসির ভূমিকা এখন কিছুটা ভিন্ন। এমএলএস সকারের ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষক জোসেফ লরির মতে, মায়ামিতে মেসিকে ডান দিকের হাফ স্পেসে স্বাধীনভাবে খেলতে দেওয়া হয়। তিনি এখন প্রতিটি আক্রমণের বিল্ডআপে আগের মতো সরাসরি যুক্ত না থেকে বক্সে পজিশনিং ও ক্রসের অপেক্ষায় থাকেন। ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসে বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার কারণে মেসির খেলার ধরনেও এই পরিবর্তন স্বাভাবিক।
এছাড়া মায়ামির খেলার কাঠামোও বার্সেলোনার মতো নয়। মায়ামিতে লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো দি পল ও জর্দি আলবার মতো পরিচিত মুখ থাকলেও দলটির আক্রমণে উইংয়ের ব্যবহার, দ্রুত বল এগিয়ে নেওয়া এবং দূরপাল্লার শটের মতো বৈচিত্র্য দেখা যায়। ফলে মেসি বক্সে গিয়ে শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ের সুযোগ বেশি পাচ্ছেন। মায়ামির হয়ে শততম গোল করার পাশাপাশি শিরোপাও জিতেছেন এই ফুটবল জাদুকর।
অর্থাৎ প্রতি ১০০ গোলের ৩.৫৭টি ছিল মাথার সাহায্যে।





























