ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোজাম্বিক থেকে ফেরার পথে বিমানে প্রাণ হারালেন বাঁশখালীর প্রবাসী সাজেক সড়কে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দশমিনায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে আট জেলের কারাদণ্ড জনগণের কাছে স্থানীয় সরকার ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান; সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব রোববার সন্ধ্যায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: সিজেপি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ বাড়াতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী রেনশ’র দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৯০ রানে অস্ট্রেলিয়া ‘জনতার আদালতে বাবু হত্যার বিচার হবে’: বড়াইগ্রামে হুইপ দুলু

১৮ নাকি ২২ সেপ্টেম্বর: ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর আসল জন্মদিন কবে?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে গণ্য করা হয়। ক্যারিয়ার ধ্বংসকারী হাঁটুর গুরুতর চোটের ধাক্কা সামলে উঠেও ব্রাজিলের হয়ে দুবার বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান ও এসি মিলানের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে। ব্যালন ডি’অর জয়ের পাশাপাশি একসময় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ও ছিলেন তিনি। তিনি আর কেউ নন—ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো লুইস নাজারিও দি লিমা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে দর্শকদের বুঁদ করে রাখা এই তারকার জন্মদিন নিয়ে ভক্তদের মাঝে প্রায়ই এক অদ্ভুত খটকা তৈরি হয়। কারণ, ১৮ সেপ্টেম্বর ও ২২ সেপ্টেম্বর—এই দুই দিনই তাঁর জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে দেখা যায় ভক্ত ও ফুটবল বিশ্বকে।

বাস্তবিক অর্থে, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, এসি মিলান এবং ইউরোপে তাঁর প্রথম ক্লাব পিএসভি আইন্দহফেনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে রোনালদোর জন্মতারিখ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর উল্লেখ করা আছে। এমনকি রোনালদো নিজেও ২২ সেপ্টেম্বরকেই অফিশিয়ালি নিজের জন্মদিন হিসেবে পালন করেন। ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আজ আমার জন্মদিন…।" তবে খটকা লাগে যখন দেখা যায়, তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও সাবেক সতীর্থরা ১৮ সেপ্টেম্বরেই তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। যেমন, ২০১৮ সালে এসি মিলান তাদের ওয়েবসাইটে ২২ সেপ্টেম্বর জন্মতারিখ লিখলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিল ১৮ সেপ্টেম্বর। গত বছর রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর সাবেক সতীর্থ ডেভিড বেকহামও ১৮ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছিলেন, "শুভ জন্মদিন, তোমাকে ভালোবাসি বন্ধু।" এমনকি ২০১৬ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’-এ সাংবাদিক রব স্মিথ ১৭ সেপ্টেম্বর এক লেখায় উল্লেখ করেছিলেন, "আগামীকাল তাঁর জন্মদিন।"

রোনালদোর জন্মদিন নিয়ে এই রহস্যের সূত্রপাত হয়েছিল আজ থেকে কয়েক দশক আগে। ১৯৪০-এর দশকে বাহিয়া থেকে রিও ডি জেনিরোর উত্তরাঞ্চলীয় শহর বেন্তো রিবেইরোয় আসেন মিসায়েল ও পের্জেন্তিনা বারাতা নামের এক দম্পতি। তাঁদের মেয়ের নাম সোনিয়া দস সান্তোস বারাতা। সোনিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় এক আদিবাসী নারীর ছেলে নেলিও নাজারিও দি লিমার। তাঁরা দুজনেই একটি টেলিফোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তাঁদের প্রেম ও বিয়ে হয়। বিয়ের পর নেলিও একটি দোকানের মালিক হন এবং সোনিয়া আইসক্রিম বিক্রি শুরু করেন।

এই দম্পতির বয়স ২১ বছর হওয়ার আগেই তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় তিন সন্তান, যার মধ্যে রোনালদো ছিলেন সবার ছোট। ১৯৭৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রোনালদো ভালেন্তে নামের এক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসেন রোনালদো। জন্মের চার দিন পর, অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর রিও ডি জেনিরোর কাসকাদুরায় ছেলের জন্মনিবন্ধন করান তাঁর বাবা নেলিও। আর এখান থেকেই জন্মতারিখের এই দুই সংস্করণের জন্ম হয়।

নেলিও কেন ছেলের জন্মের চার দিন পর নিবন্ধন করিয়েছিলেন, তা নিয়ে কয়েকটি ভিন্ন গল্প প্রচলিত আছে। একটি সংস্করণ অনুযায়ী, দেরিতে নিবন্ধনের জরিমানা এড়াতে নেলিও ২২ সেপ্টেম্বরকে জন্মতারিখ হিসেবে নিবন্ধন বইয়ে লিখিয়েছিলেন। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ আবার অন্য একটি তথ্য জানায়। তাদের মতে, সে সময় ব্রাজিলে জন্মনিবন্ধন করতে নির্দিষ্ট ফি দিতে হতো, যা বিনামূল্যে করা যেত না। সেই অর্থ জোগাড় করতেই নেলিওর চার দিন সময় লেগে গিয়েছিল। আরেকটি সূত্র দাবি করে, নিবন্ধনের আসল সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় জরিমানা এড়াতে নেলিও বুদ্ধি করে চার দিন পর নিবন্ধনের তারিখ দেখান। অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, রোনালদোর অফিশিয়াল জন্মনিবন্ধন নম্বর ছিল ৭৭৩০। ব্রাজিলে অনেকের বিশ্বাস, এই নম্বরটি পরে বেশ কয়েকবার লটারি জিতেছিল। তবে রোনালদো নিজেও বেশ কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিলেন; খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি কখনোই বাম পা আগে না ফেলে মাঠে প্রবেশ করতেন না।

রোনালদোর নাম রাখার পেছনেও রয়েছে এক কৃতজ্ঞতার ইতিহাস। যে চিকিৎসক সোনিয়াকে প্রসববেদনা ওঠার পর তাঁর ফক্সওয়াগন বিটলে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কোনো চিকিৎসা খরচ না নিয়ে রোনালদোকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিলেন, তাঁর নাম ছিল রোনালদো ভালেন্তে। সেই চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই নেলিও তাঁর ছোট ছেলের নাম রাখেন রোনালদো। শৈশবে রোনালদোকে পরিবারের সবাই ‘দাদাদো’ নামে ডাকত। মাত্র ১১ বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদের পর রোনালদোর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

হোর্হে কালদেইরার লেখা ‘রোনালদো: গ্লোরি অ্যান্ড ড্রামা গ্লোবালাইজড’ বই থেকে জানা যায়, রিও শহরের মেত্রোপলিতান চ্যাম্পিয়নশিপে সোশ্যাল রামোস ক্লাবের হয়ে ইনডোর ফুটবলে নিজের প্রথম বছরেই ১৬৬ গোল করে সবার নজরে আসেন এই বিস্ময় বালক। ১৩ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে নিজের শৈশবের আদর্শ জিকোর পথ অনুসরণ করে ফ্লামেঙ্গোতে ট্রায়াল দেন তিনি। ৪০০ প্রতিযোগীর মধ্যে টিকে গেলেও যাতায়াত খরচ না থাকায় পরের দিন আর সেখানে যেতে পারেননি। এরপর সোশ্যাল রামোস ক্লাব খেলোয়াড় বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁকে সাও ক্রিস্তোভাও ক্লাবে পাঠায়। এই ক্লাবের কোচ ছিলেন ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জর্জিনিও। তিন বছর পর জর্জিনিওই রোনালদোকে তাঁর সাবেক ক্লাব ক্রুজেইরোতে পাঠান।

১৯৯৩ সালের ২৫ মে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ক্রুজেইরোর হয়ে রোনালদোর অভিষেক হয়। ২ হাজার ৪৮৪ জন দর্শকের সামনে যে স্টেডিয়ামে তিনি প্রথম খেলেন, সেটির নাম ছিল ‘রোনালদোও স্টেডিয়াম’। ১৯৭৯ সালে স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় পোকোস দে কালদেসের মেয়র রোনালদোও জুনকুইয়েইরা-র নামে এর নামকরণ হয়েছিল। একইভাবে তাঁর সাবেক ক্লাব সাও ক্রিস্তোভাও তাদের স্টেডিয়ামের নাম রেখেছে ‘রোনালদো লুইস নাজারিও দি লিমা’।

ক্রুজেইরোর পর রোনালদোর ফুটবল যাত্রা সবার জানা—পিএসভি, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলান হয়ে করিন্থিয়ান্সে এসে শেষ হয় তাঁর ক্লাব ক্যারিয়ার। ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে ৯৮ ম্যাচে ৬২ গোল করার পথে নিজের আসল জন্মদিনের তারিখটিকেও জার্সিতে ধারণ করেছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকে তিনি ১৮ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন।

সেই অলিম্পিকে রোনালদোর নাম নিয়ে এক মজার ঘটনা ঘটেছিল। ১৯৯৪ সালে যখন রোনালদোর জাতীয় দলে অভিষেক হয়, তখন ব্রাজিল দলে রোনালদো রদ্রিগেজ দে জেসুস নামের এক ডিফেন্ডার ছিলেন। সবাই তাঁকে রোনালদো নামে চিনত। নতুন রোনালদো দলে আসায় পুরোনো রোনালদোর নাম হয়ে যায় ‘রোনালদোও’ (বড় রোনালদো)। ১৯৯৬ অলিম্পিকেও দলে রোনালদো গুইয়ারো নামের আরেকজন ডিফেন্ডার ছিলেন। তাঁর চেয়ে দুই বছরের ছোট হওয়ায় স্ট্রাইকার রোনালদোকে সেই টুর্নামেন্টে ‘রোনালদিনিও’ (ছোট রোনালদো) নাম লিখে খেলতে হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি আবার নিজের রোনালদো নামে ফিরে আসেন এবং জার্সি নম্বর ১৮ থেকে অর্ধেক করে ৯ পরতে শুরু করেন। এর কয়েক বছর পর বিশ্ব ফুটবলে আগমন ঘটে আসল রোনালদিনিওর। তত দিনে অবশ্য ফুটবল বিশ্ব রোনালদো নাজারিওকে ভালোবেসে নতুন নাম দিয়েছিল—‘ও ফেনোমেনো’ বা দ্য ফেনোমেনন।

সেই অর্থ জোগাড় করতে চার দিন সময় লেগে যায় নেলিওর।.২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে হলে কী করতে হবে, নেইমারকে বলে দিলেন রোনালদো .আরেকটি সূত্রের দাবি, জন্মনিবন্ধনের সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

১৮ নাকি ২২ সেপ্টেম্বর: ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর আসল জন্মদিন কবে?

আপডেট সময় : ১১:৩৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে গণ্য করা হয়। ক্যারিয়ার ধ্বংসকারী হাঁটুর গুরুতর চোটের ধাক্কা সামলে উঠেও ব্রাজিলের হয়ে দুবার বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান ও এসি মিলানের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে। ব্যালন ডি’অর জয়ের পাশাপাশি একসময় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ও ছিলেন তিনি। তিনি আর কেউ নন—ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো লুইস নাজারিও দি লিমা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে দর্শকদের বুঁদ করে রাখা এই তারকার জন্মদিন নিয়ে ভক্তদের মাঝে প্রায়ই এক অদ্ভুত খটকা তৈরি হয়। কারণ, ১৮ সেপ্টেম্বর ও ২২ সেপ্টেম্বর—এই দুই দিনই তাঁর জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে দেখা যায় ভক্ত ও ফুটবল বিশ্বকে।

বাস্তবিক অর্থে, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, এসি মিলান এবং ইউরোপে তাঁর প্রথম ক্লাব পিএসভি আইন্দহফেনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে রোনালদোর জন্মতারিখ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর উল্লেখ করা আছে। এমনকি রোনালদো নিজেও ২২ সেপ্টেম্বরকেই অফিশিয়ালি নিজের জন্মদিন হিসেবে পালন করেন। ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আজ আমার জন্মদিন…।" তবে খটকা লাগে যখন দেখা যায়, তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও সাবেক সতীর্থরা ১৮ সেপ্টেম্বরেই তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। যেমন, ২০১৮ সালে এসি মিলান তাদের ওয়েবসাইটে ২২ সেপ্টেম্বর জন্মতারিখ লিখলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিল ১৮ সেপ্টেম্বর। গত বছর রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর সাবেক সতীর্থ ডেভিড বেকহামও ১৮ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছিলেন, "শুভ জন্মদিন, তোমাকে ভালোবাসি বন্ধু।" এমনকি ২০১৬ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’-এ সাংবাদিক রব স্মিথ ১৭ সেপ্টেম্বর এক লেখায় উল্লেখ করেছিলেন, "আগামীকাল তাঁর জন্মদিন।"

রোনালদোর জন্মদিন নিয়ে এই রহস্যের সূত্রপাত হয়েছিল আজ থেকে কয়েক দশক আগে। ১৯৪০-এর দশকে বাহিয়া থেকে রিও ডি জেনিরোর উত্তরাঞ্চলীয় শহর বেন্তো রিবেইরোয় আসেন মিসায়েল ও পের্জেন্তিনা বারাতা নামের এক দম্পতি। তাঁদের মেয়ের নাম সোনিয়া দস সান্তোস বারাতা। সোনিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় এক আদিবাসী নারীর ছেলে নেলিও নাজারিও দি লিমার। তাঁরা দুজনেই একটি টেলিফোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তাঁদের প্রেম ও বিয়ে হয়। বিয়ের পর নেলিও একটি দোকানের মালিক হন এবং সোনিয়া আইসক্রিম বিক্রি শুরু করেন।

এই দম্পতির বয়স ২১ বছর হওয়ার আগেই তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় তিন সন্তান, যার মধ্যে রোনালদো ছিলেন সবার ছোট। ১৯৭৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রোনালদো ভালেন্তে নামের এক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসেন রোনালদো। জন্মের চার দিন পর, অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর রিও ডি জেনিরোর কাসকাদুরায় ছেলের জন্মনিবন্ধন করান তাঁর বাবা নেলিও। আর এখান থেকেই জন্মতারিখের এই দুই সংস্করণের জন্ম হয়।

নেলিও কেন ছেলের জন্মের চার দিন পর নিবন্ধন করিয়েছিলেন, তা নিয়ে কয়েকটি ভিন্ন গল্প প্রচলিত আছে। একটি সংস্করণ অনুযায়ী, দেরিতে নিবন্ধনের জরিমানা এড়াতে নেলিও ২২ সেপ্টেম্বরকে জন্মতারিখ হিসেবে নিবন্ধন বইয়ে লিখিয়েছিলেন। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ আবার অন্য একটি তথ্য জানায়। তাদের মতে, সে সময় ব্রাজিলে জন্মনিবন্ধন করতে নির্দিষ্ট ফি দিতে হতো, যা বিনামূল্যে করা যেত না। সেই অর্থ জোগাড় করতেই নেলিওর চার দিন সময় লেগে গিয়েছিল। আরেকটি সূত্র দাবি করে, নিবন্ধনের আসল সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় জরিমানা এড়াতে নেলিও বুদ্ধি করে চার দিন পর নিবন্ধনের তারিখ দেখান। অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, রোনালদোর অফিশিয়াল জন্মনিবন্ধন নম্বর ছিল ৭৭৩০। ব্রাজিলে অনেকের বিশ্বাস, এই নম্বরটি পরে বেশ কয়েকবার লটারি জিতেছিল। তবে রোনালদো নিজেও বেশ কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিলেন; খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি কখনোই বাম পা আগে না ফেলে মাঠে প্রবেশ করতেন না।

রোনালদোর নাম রাখার পেছনেও রয়েছে এক কৃতজ্ঞতার ইতিহাস। যে চিকিৎসক সোনিয়াকে প্রসববেদনা ওঠার পর তাঁর ফক্সওয়াগন বিটলে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কোনো চিকিৎসা খরচ না নিয়ে রোনালদোকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিলেন, তাঁর নাম ছিল রোনালদো ভালেন্তে। সেই চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই নেলিও তাঁর ছোট ছেলের নাম রাখেন রোনালদো। শৈশবে রোনালদোকে পরিবারের সবাই ‘দাদাদো’ নামে ডাকত। মাত্র ১১ বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদের পর রোনালদোর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

হোর্হে কালদেইরার লেখা ‘রোনালদো: গ্লোরি অ্যান্ড ড্রামা গ্লোবালাইজড’ বই থেকে জানা যায়, রিও শহরের মেত্রোপলিতান চ্যাম্পিয়নশিপে সোশ্যাল রামোস ক্লাবের হয়ে ইনডোর ফুটবলে নিজের প্রথম বছরেই ১৬৬ গোল করে সবার নজরে আসেন এই বিস্ময় বালক। ১৩ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে নিজের শৈশবের আদর্শ জিকোর পথ অনুসরণ করে ফ্লামেঙ্গোতে ট্রায়াল দেন তিনি। ৪০০ প্রতিযোগীর মধ্যে টিকে গেলেও যাতায়াত খরচ না থাকায় পরের দিন আর সেখানে যেতে পারেননি। এরপর সোশ্যাল রামোস ক্লাব খেলোয়াড় বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁকে সাও ক্রিস্তোভাও ক্লাবে পাঠায়। এই ক্লাবের কোচ ছিলেন ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জর্জিনিও। তিন বছর পর জর্জিনিওই রোনালদোকে তাঁর সাবেক ক্লাব ক্রুজেইরোতে পাঠান।

১৯৯৩ সালের ২৫ মে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ক্রুজেইরোর হয়ে রোনালদোর অভিষেক হয়। ২ হাজার ৪৮৪ জন দর্শকের সামনে যে স্টেডিয়ামে তিনি প্রথম খেলেন, সেটির নাম ছিল ‘রোনালদোও স্টেডিয়াম’। ১৯৭৯ সালে স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় পোকোস দে কালদেসের মেয়র রোনালদোও জুনকুইয়েইরা-র নামে এর নামকরণ হয়েছিল। একইভাবে তাঁর সাবেক ক্লাব সাও ক্রিস্তোভাও তাদের স্টেডিয়ামের নাম রেখেছে ‘রোনালদো লুইস নাজারিও দি লিমা’।

ক্রুজেইরোর পর রোনালদোর ফুটবল যাত্রা সবার জানা—পিএসভি, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলান হয়ে করিন্থিয়ান্সে এসে শেষ হয় তাঁর ক্লাব ক্যারিয়ার। ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে ৯৮ ম্যাচে ৬২ গোল করার পথে নিজের আসল জন্মদিনের তারিখটিকেও জার্সিতে ধারণ করেছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকে তিনি ১৮ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন।

সেই অলিম্পিকে রোনালদোর নাম নিয়ে এক মজার ঘটনা ঘটেছিল। ১৯৯৪ সালে যখন রোনালদোর জাতীয় দলে অভিষেক হয়, তখন ব্রাজিল দলে রোনালদো রদ্রিগেজ দে জেসুস নামের এক ডিফেন্ডার ছিলেন। সবাই তাঁকে রোনালদো নামে চিনত। নতুন রোনালদো দলে আসায় পুরোনো রোনালদোর নাম হয়ে যায় ‘রোনালদোও’ (বড় রোনালদো)। ১৯৯৬ অলিম্পিকেও দলে রোনালদো গুইয়ারো নামের আরেকজন ডিফেন্ডার ছিলেন। তাঁর চেয়ে দুই বছরের ছোট হওয়ায় স্ট্রাইকার রোনালদোকে সেই টুর্নামেন্টে ‘রোনালদিনিও’ (ছোট রোনালদো) নাম লিখে খেলতে হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি আবার নিজের রোনালদো নামে ফিরে আসেন এবং জার্সি নম্বর ১৮ থেকে অর্ধেক করে ৯ পরতে শুরু করেন। এর কয়েক বছর পর বিশ্ব ফুটবলে আগমন ঘটে আসল রোনালদিনিওর। তত দিনে অবশ্য ফুটবল বিশ্ব রোনালদো নাজারিওকে ভালোবেসে নতুন নাম দিয়েছিল—‘ও ফেনোমেনো’ বা দ্য ফেনোমেনন।

সেই অর্থ জোগাড় করতে চার দিন সময় লেগে যায় নেলিওর।.২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে হলে কী করতে হবে, নেইমারকে বলে দিলেন রোনালদো .আরেকটি সূত্রের দাবি, জন্মনিবন্ধনের সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo