ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টিকাটুলিতে বাসের রেষারেষিতে প্রাণ গেল গৃহকর্মী রিনা রানীর ফিলিস্তিন রক্ষার দায়বদ্ধতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় আগুন: সাত ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি ইসরায়েলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবন ও প্রতিকূলতার বাস্তব চিত্র পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করল ইসি বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্টের সঙ্গে থাকছে চ্যাম্পিয়নস লিগের জমজমাট লড়াই ঢাকা-দিল্লি বাণিজ্য আলোচনা: অমীমাংসিত রয়ে গেল পুরনো সব বাধা শরীয়তপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১৫ জেলে আটক অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই: ‘বড় বোনকে হারালাম’ সুচন্দা সৌদিতে মৃত হানিফের মরদেহ ফেরাতে মায়ের আকুতি: ‘মোর মানিকেরে কোলে দাও’

রাতে ঘুমানোর সুন্নত সময় ও ইসলামি শিষ্টাচার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শৈশবের সেই পরিচিত নীতিবাক্য, ‘আর্লি টু বেড অ্যান্ড আর্লি টু রাইজ, মেকস আ ম্যান হেলদি, ওয়েলদি অ্যান্ড ওয়াইজ’—অর্থাৎ রাতে দ্রুত ঘুমানো ও ভোরে ওঠা সুস্থ, দীর্ঘায়ু ও কর্মক্ষম জীবনের মূল ভিত্তি। গবেষকগণ একমত যে, অপ্রয়োজনে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই জীবনমুখী পরামর্শই বিশ্বমানবতার জন্য সুন্নত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন প্রিয় নবী (সা.)।

সহিহ বুখারির ৫৬৮ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, নবীজি (সা.) এশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো এবং এশার নামাজের পর অহেতুক গল্পগুজব বা আড্ডা দেওয়া অপছন্দ করতেন। এই নির্দেশনার পেছনে রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা। মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে ঘুমিয়ে পড়লে ক্লান্তির কারণে এশার নামাজ কাজা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে, এশার পর অনর্থক আলাপে মেতে থাকলে রাতের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়, যার ফলে ফজরের জামাত ছুটে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং শেষ রাতের বরকতময় তাহাজ্জুদ ও দোয়া থেকেও মানুষ বঞ্চিত হয়।

দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জীবন থেকেও এ বিষয়ে শিক্ষা পাওয়া যায়। তিনি এশার পর মানুষকে গল্প করতে দেখলে কঠোরভাবে বারণ করতেন। ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর ‘ফাতহুল বারি’ (২/৭৩, দারুল মারিফাহ, বৈরুত) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, খলিফা ওমর (রা.) বলতেন, ‘তোমরা কি রাতের প্রথম ভাগে গল্পগুজব করবে, আর শেষ ভাগে ঘুমে অচেতন হয়ে থাকবে?’

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এশার পরের সময়টি অনেকের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা চ্যাটিংয়ের প্রধান সময়ে পরিণত হয়েছে। অথচ এশার পর অনর্থক কর্মকাণ্ডে সময় নষ্ট করা ইসলামি শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ইসলামি আইনজ্ঞদের মতে, দ্বীনি ইলম চর্চা, পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাজ ছাড়া এশার পর সাধারণ দুনিয়াবি গল্পগুজব করা অনুচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন ব্যক্তির উত্তম মুসলিম হওয়ার অন্যতম সৌন্দর্য হলো—সে অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও কাজ সম্পূর্ণ বর্জন করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)। মূলত রাতের প্রথম প্রহরে দ্রুত ঘুমালে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয় এবং শেষ রাতে রবের সামনে দাঁড়ানোর মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়। এটি কেবল শরীর সুস্থ রাখার উপায় নয়, বরং এটি একটি বরকতময় সুন্নাহ, যা ভোরে সতেজ মনে দিনের কাজ শুরু করতে সহায়তা করে এবং শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জনের পথ সুগম করে।

অথচ এশার পর অনর্থক কর্মকাণ্ডে সময় নষ্ট করা ইসলামি শিষ্টাচারের পরিপন্থী।.গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে ৪ করণীয়.ইসলামি আইনজ্ঞদের মতে, দ্বীনি ইলম চর্চা, পরিবারের প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাজ ছাড়া এশার পর সাধারণ দুনিয়াবি গল্পগুজব করা অনুচিত।

এ অভ্যাসের ফলে ভোরে সতেজ মনে দিনের কাজ শুরু করা যায় এবং শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জনের পথ সুগম হয়।আহমাদ সাব্বির : লেখক ও গবেষক.সকালে ঘুম থেকে জেগে নবীজি (সা.)-এর ৭ আমল

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

রাতে ঘুমানোর সুন্নত সময় ও ইসলামি শিষ্টাচার

আপডেট সময় : ০৫:১৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

শৈশবের সেই পরিচিত নীতিবাক্য, ‘আর্লি টু বেড অ্যান্ড আর্লি টু রাইজ, মেকস আ ম্যান হেলদি, ওয়েলদি অ্যান্ড ওয়াইজ’—অর্থাৎ রাতে দ্রুত ঘুমানো ও ভোরে ওঠা সুস্থ, দীর্ঘায়ু ও কর্মক্ষম জীবনের মূল ভিত্তি। গবেষকগণ একমত যে, অপ্রয়োজনে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই জীবনমুখী পরামর্শই বিশ্বমানবতার জন্য সুন্নত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন প্রিয় নবী (সা.)।

সহিহ বুখারির ৫৬৮ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, নবীজি (সা.) এশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো এবং এশার নামাজের পর অহেতুক গল্পগুজব বা আড্ডা দেওয়া অপছন্দ করতেন। এই নির্দেশনার পেছনে রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা। মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে ঘুমিয়ে পড়লে ক্লান্তির কারণে এশার নামাজ কাজা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে, এশার পর অনর্থক আলাপে মেতে থাকলে রাতের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়, যার ফলে ফজরের জামাত ছুটে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং শেষ রাতের বরকতময় তাহাজ্জুদ ও দোয়া থেকেও মানুষ বঞ্চিত হয়।

দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জীবন থেকেও এ বিষয়ে শিক্ষা পাওয়া যায়। তিনি এশার পর মানুষকে গল্প করতে দেখলে কঠোরভাবে বারণ করতেন। ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর ‘ফাতহুল বারি’ (২/৭৩, দারুল মারিফাহ, বৈরুত) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, খলিফা ওমর (রা.) বলতেন, ‘তোমরা কি রাতের প্রথম ভাগে গল্পগুজব করবে, আর শেষ ভাগে ঘুমে অচেতন হয়ে থাকবে?’

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এশার পরের সময়টি অনেকের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা চ্যাটিংয়ের প্রধান সময়ে পরিণত হয়েছে। অথচ এশার পর অনর্থক কর্মকাণ্ডে সময় নষ্ট করা ইসলামি শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ইসলামি আইনজ্ঞদের মতে, দ্বীনি ইলম চর্চা, পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাজ ছাড়া এশার পর সাধারণ দুনিয়াবি গল্পগুজব করা অনুচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন ব্যক্তির উত্তম মুসলিম হওয়ার অন্যতম সৌন্দর্য হলো—সে অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও কাজ সম্পূর্ণ বর্জন করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)। মূলত রাতের প্রথম প্রহরে দ্রুত ঘুমালে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয় এবং শেষ রাতে রবের সামনে দাঁড়ানোর মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়। এটি কেবল শরীর সুস্থ রাখার উপায় নয়, বরং এটি একটি বরকতময় সুন্নাহ, যা ভোরে সতেজ মনে দিনের কাজ শুরু করতে সহায়তা করে এবং শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জনের পথ সুগম করে।

অথচ এশার পর অনর্থক কর্মকাণ্ডে সময় নষ্ট করা ইসলামি শিষ্টাচারের পরিপন্থী।.গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে ৪ করণীয়.ইসলামি আইনজ্ঞদের মতে, দ্বীনি ইলম চর্চা, পরিবারের প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাজ ছাড়া এশার পর সাধারণ দুনিয়াবি গল্পগুজব করা অনুচিত।

এ অভ্যাসের ফলে ভোরে সতেজ মনে দিনের কাজ শুরু করা যায় এবং শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জনের পথ সুগম হয়।আহমাদ সাব্বির : লেখক ও গবেষক.সকালে ঘুম থেকে জেগে নবীজি (সা.)-এর ৭ আমল

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo