যেকোনো সময় আট দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে: শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৮:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

বিরোধী দলগুলোর আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় বিরোধী দলের আট দফা প্রয়োজনে নয় বা দশ দফায় রূপ নিতে পারে, আবার দেশের প্রয়োজনে তা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে।
সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নেবে। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই সরকারকে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে কোনো ধরনের চোখ রাঙানিকে বিরোধী দল পরোয়া করবে না।
চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের সফলতায় অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে এর কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি হতাশ না হয়ে জনতার দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল নিজেদের দলীয় স্বার্থে নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ে মাঠে নেমেছে এবং এই দাবি আদায় করেই তারা ঘরে ফিরবে।
সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জোয়ার তৈরি হয়েছে। আর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে আন্দোলন ও লড়াই শান্তিপূর্ণ উপায়ে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম।
এ ছাড়া বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের সময় ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ৬টি দাবি জানানো হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা, নিত্যপণ্যের দাম কমানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধ করা। এবারের রংপুরমুখী লংমার্চে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়ে মোট আটটি দাবি উত্থাপিত হয়েছে।
জোটের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এই ধারাবাহিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় দাবিগুলোকে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে সরকারকে চাপে রাখা। ঘোষিত চারটি লংমার্চ শেষে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ ছাড়াও অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে জোটের।





























