রাজনৈতিক ঐকমত্যে ৭০ অনুচ্ছেদের ‘কবর’ দেওয়া হবে: চিফ হুইপ
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর বাধ্যবাধকতার কারণে বর্তমান পদ্ধতিতে সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলেও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের আলোচনার মাধ্যমে এই ৭০ অনুচ্ছেদের বিলোপ বা ‘কবর’ দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করে তিনি জানান, নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের প্রার্থী ড. অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
সংবিধান সংশোধন না করে তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিরোধী শিবিরের সমালোচনার জবাব দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণ—সবই বর্তমান সংবিধান মেনে সম্পন্ন হয়েছে। এই সংবিধানের অধীনেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিয়েছেন। ফলে বিদ্যমান কাঠামোতে ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় তা মেনে চলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।
নূরুল ইসলাম মণি আরও বলেন, দেশের মানুষ গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা চাই আগামী নির্বাচনের পর সব বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মুক্ত পরিবেশে রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে ছয়জন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতির বিষয়টি স্পষ্ট করেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে তারা ভোট দিতে পারেননি। অনুপস্থিত বিএনপি সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস (যিনি পূর্বানুমতি নিয়েছিলেন), চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন কামাল পাশা এবং যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ড. ওসমান ফারুক। এছাড়া খেলাফত মজলিসের আব্দুল হান্নান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা ও গাজী নজরুল ইসলাম ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।




























