দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংকটে রেস্তোরাঁ খাত, মালিক সমিতির ৯ দফা দাবি
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের রেস্তোরাঁ খাত এক গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ রেস্তোরাঁগুলো ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। শনিবার পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সংকটের কথা তুলে ধরে সংগঠনটি তাদের ৯ দফা দাবি পেশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি জানান, চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, মাংস, মসলা ও শাকসবজিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, ঘর ভাড়া, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ক্রেতা হারানোর ভয়ে অধিকাংশ রেস্তোরাঁই খাবারের দাম বাড়াতে পারছে না। ফলে রেস্তোরাঁগুলোর সার্বিক বিক্রি ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, যা ব্যবসায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইমরান হাসান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করতে বিভিন্ন দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২টি অনুমোদন নিতে হয়। এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা ও কার্যকর তদারকি উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে রেস্তোরাঁ খাতকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও একটি 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' চালুর জোর দাবি জানান তিনি।
এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং রেস্তোরাঁ শিল্পের টেকসই বিকাশ ও কর্মসংস্থান রক্ষার লক্ষ্যে মালিক সমিতি ৯টি দাবি তুলে ধরেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রেস্তোরাঁ ব্যবসায় দ্রুত ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা; দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মালিকদের দাম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের অন্যায্য হস্তক্ষেপ বন্ধ করা; ভ্যাট আদায়ের নামে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করা; ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ২ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা; এবং এলপিজি ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধানসহ লোডশেডিং কমিয়ে আনা।
এছাড়াও অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে অহেতুক আর্থিক জরিমানা ও হয়রানি বন্ধ করা; রেস্তোরাঁ খাতকে দ্রুত শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সুনির্দিষ্ট শিল্প নীতি প্রণয়ন করা; মালিক সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা; গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া; ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ট্যাগ দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা; এবং শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার মাধ্যমে এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, প্রথম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু উপস্থিত ছিলেন।



























