ককটেল ফাটালেই ৫-১০ হাজার টাকা, ভারতীয় নম্বর থেকে আসত নাশকতার নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১০:০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিটি মলোটভ ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তার ভিডিও পাঠালেই চক্রের সদস্যদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। আর এসব অপকর্মের দিকনির্দেশনা আসছে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে খোলা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে। সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে এই চক্রের একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বংশাল থানা ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক রায়হান উদ্দিন এবং ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল খান, আলা উদ্দিন ও আবদুল্লাহ। একই দিন যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দুনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া গত ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেল স্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ সানমুনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে একটি মোটরসাইকেল ও ককটেলসহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
ডিবি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার রায়হান জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নির্দেশনায় তারা যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা পরিচিত এক দোকানদারের মোটরসাইকেল চেয়ে নিয়ে তা ব্যবহার করেন। বিস্ফোরণের পর সেই ঘটনার ভিডিও করে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠালেই মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যেত।
ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (এসি) শফিকুল ইসলাম এবং ওয়ারী বিভাগের সহকারী কমিশনার (ডিসি) মোল্লা মো. শাহীন জানান, অপরাধীরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও অত্যন্ত সতর্ক কৌশল অবলম্বন করছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, কেবল ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ হলেই ব্যবহারকারী ভারতে অবস্থান করছেন তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। রোমিং সুবিধা বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকেই এই অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করা সম্ভব।
এদিকে নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত সোমবার রাতে ঢাকার উত্তরা থেকে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ডিবির রমনা জোনাল টিম। তাঁর পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যে গরমিল থাকায় তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে কক্সবাজার থেকে বাস পোড়ানো ও বোমাবাজির সমন্বয়ক ডেমরা থানা বাংলাদেশ মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজকে গ্রেফতার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ। শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকার কারণেই অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে। নাশকতার মূল চক্রটি উপড়ে ফেলতে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।




























