অপ্রতিম হত্যায় আইফোন ছিনতাইয়ের পুলিশের দাবির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভিন্নমত
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে—পুলিশের এমন দাবির সঙ্গে একমত হতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্তে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এসব দাবি জানান। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে রোববার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান দাবি করেছিলেন, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়। সেখানে বাধা দেওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তবে শিক্ষার্থী কাজী মিরাজ পুলিশের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোনই একমাত্র কারণ হতে পারে না। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জীবনযাপন, তাদের ব্যবহৃত দামি মুঠোফোন ও মোটরসাইকেলের উৎস তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। গ্রেপ্তার তুহিনের বিরুদ্ধে আগে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা বের করার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ আবুল বাশার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের স্বার্থে তথ্য গোপনের কথা বলা হলেও, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা জরুরি। তিনি অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগমকে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ জানানোর দাবি জানান। ছাত্র অধিকার পরিষদের মহানগর সভাপতি সাইফ হোসেন গ্রেপ্তার দুই কিশোরের বয়স যথাযথভাবে যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। অপ্রতিমের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে এক কিশোরের বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। এছাড়া নাহিদা বেগম প্রক্টর থাকাকালীন মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকজন কিশোরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন, যার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে পুলিশ এখনো কোনো নিশ্চিত যোগসূত্রের কথা জানায়নি।
গত শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোনের ক্ষুদে বার্তার ভিত্তিতে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।




























