র্যাব পরিচয়ে জবি ছাত্রীকে তুলে নেয়ার চেষ্টা, উদ্ধার করলেন শিক্ষকরা
- আপডেট সময় : ০২:০৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রীকে র্যাব পরিচয়ে গাড়িতে তুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুন। রোববার সকালে কলতাবাজার এলাকার একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় বসবাসরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেখানে পৌঁছান। শুরুতে র্যাব পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও, পরবর্তীতে সেখানে র্যাবের সদস্যরা উপস্থিত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক জানান, এক শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে মেসে র্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখেন, ওই ছাত্রীকে র্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক তারেক বিন আতিক বলেন, “আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীকে গাড়িতে উঠানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি, শিক্ষার্থী এখান থেকে যাবে না। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ থাকলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্য মহোদয়কে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলেও তারা পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিতে রাজি হননি। এছাড়া ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চুরির মামলার কথা বলা হলেও এর কোনো বিস্তারিত তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি। তার ধারণা, পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এ ধরনের মামলা হয়ে থাকতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তিনি সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দায়িত্ব।
এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ওসি আনোয়ার জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন যে র্যাবের সদস্যরা একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল। পরবর্তীতে এটি পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত মামলা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই র্যাব সদস্যরা চলে যান। এদিকে, ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং কোনো অনিয়ম বা উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।




























