আইজাজ আহমদ: ইতিহাসের গভীরে এক মার্কসবাদী চিন্তক ও সাহিত্যতাত্ত্বিক
- আপডেট সময় : ০২:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

আইজাজ আহমদ (১৯৪১–২০২২) ছিলেন সমকালীন বিশ্বের একজন প্রখ্যাত মার্কসবাদী দার্শনিক, সাহিত্যতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আরভিনের স্কুল অব হিউম্যানিটিজের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে চ্যান্সেলরস প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালে ইউসি আরভিনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি নয়াদিল্লির নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরির সেন্টার অব কনটেম্পোরারি স্টাডিজে প্রফেসরিয়াল ফেলো এবং টরন্টোর ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
ব্রিটিশ ভারতের মুজাফ্ফরনগরে জন্মগ্রহণকারী আইজাজ দেশভাগের পর লাহোরে বেড়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি লাহোরের ক্যাফে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা তাকে উর্দু সাহিত্য ও মার্কসবাদী দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত করে তোলে। পাকিস্তানের বামপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে একপর্যায়ে তাকে নিউইয়র্কে পাড়ি দিতে হয়। সেখানে তার চিন্তার প্রধান দুটি ধারা হিসেবে কবিতা ও রাজনীতি বিকশিত হয়। বিশেষ করে গালিবের কবিতা নিয়ে তার গবেষণামূলক কাজ এবং ‘গজলস অব গালিব’ তাকে আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য বক্তৃতা দিয়েছেন এবং লেখালেখি করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘লাইনিয়েজ অব দ্য প্রেজেন্ট: আইডিওলজি অ্যান্ড পলিটিক্স ইন কনটেম্পোরারি সাউথ এশিয়া’ (১৯৯৬), ‘ইরাক, আফগানিস্তান অ্যান্ড দ্য ইমপেরিয়ালিজম অব আওয়ার টাইম’ (২০০৪), ‘ইন আওয়ার টাইম: এম্পায়ার, পলিটিক্স, কালচার’ (২০০৭), ‘নাথিং হিউম্যান ইজ এলিয়েন টু মি’ (২০২০) এবং ‘গজলস অব গালিব’ (১৯৯৫)।
ভারতে ফিরে তিনি হিন্দুত্ববাদ, অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে তার বিশ্লেষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; তিনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি অনুধাবনের জন্য জাতপাত, পিতৃতন্ত্র, অর্থনীতি ও ইতিহাসকে সামগ্রিকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আইজাজের মূল দর্শন ছিল—পৃথিবীকে বুঝতে হলে এর পেছনের ক্ষমতার কাঠামোকে বিশ্লেষণ করতে হবে। ২০২২ সালের ৯ মার্চ এই প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ মৃত্যুবরণ করেন। তার কণ্ঠ আজ স্তব্ধ হলেও, তার উত্থাপিত প্রশ্নগুলো আজও আমাদের চিন্তার জগতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।
























