ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ঘুষ ও নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫ এর পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নোটিশ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচালক হামিদুল ইসলাম তাঁর অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের ব্যবহার করে বাড়ির মালিকদের নোটিশ দিয়ে ভয় দেখান এবং মোটা অংকের অর্থ আদায়ের পর সেই নোটিশ গায়েব করে দেন। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি বাণিজ্য, মোবাইল কোর্টের নামে রফা এবং বিপুল পরিমাণ প্লট-ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুরের মিঠাপুকুর থানার রূপসা গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম দর্শনে এম.এ ডিগ্রিধারী। ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী সচিব হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা ২০১৬ সালে উপ-পরিচালক এবং ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। ২০৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেও ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০ এপ্রিল এবং ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরির শুরুর কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটান। ২০১৬-১৭ সালে রাজউকে ড্রাইভার নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে, যার কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি।

পরিচালক হিসেবে ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া বণ্টনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ঘন ঘন এরিয়া পরিবর্তন করেন এবং মাসিক চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ইমারত পরিদর্শকদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এরিয়া বণ্টন করে পরে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়া ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে নিউ এলিফ্যান্ট রোডের হোল্ডিং-১১০, ১১১ ও ১১২ নম্বরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকার হোল্ডিং-৮২ নম্বরের ক্ষেত্রে আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে মোবাইল কোর্টের পর ১৫ লাখ টাকা নিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, “এসব অভিযোগ পুরোনো। আমি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানি। এর আগে দুদকে অভিযোগ করা একজন তাঁর অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। আমি আমার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করি। কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।” অন্যদিকে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেকোনো অভিযোগ এলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, সব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হয় এবং প্রাথমিক যাচাইয়ের পর তদন্ত শুরু করা হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

২০১০ সালের পর থেকে রংপুরে অধিক ফসলি জমি এবং ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের অভিযোগ আছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ঘুষ ও নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫ এর পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নোটিশ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচালক হামিদুল ইসলাম তাঁর অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের ব্যবহার করে বাড়ির মালিকদের নোটিশ দিয়ে ভয় দেখান এবং মোটা অংকের অর্থ আদায়ের পর সেই নোটিশ গায়েব করে দেন। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি বাণিজ্য, মোবাইল কোর্টের নামে রফা এবং বিপুল পরিমাণ প্লট-ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুরের মিঠাপুকুর থানার রূপসা গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম দর্শনে এম.এ ডিগ্রিধারী। ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী সচিব হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা ২০১৬ সালে উপ-পরিচালক এবং ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। ২০৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেও ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০ এপ্রিল এবং ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরির শুরুর কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটান। ২০১৬-১৭ সালে রাজউকে ড্রাইভার নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে, যার কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি।

পরিচালক হিসেবে ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া বণ্টনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ঘন ঘন এরিয়া পরিবর্তন করেন এবং মাসিক চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ইমারত পরিদর্শকদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এরিয়া বণ্টন করে পরে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়া ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে নিউ এলিফ্যান্ট রোডের হোল্ডিং-১১০, ১১১ ও ১১২ নম্বরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকার হোল্ডিং-৮২ নম্বরের ক্ষেত্রে আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে মোবাইল কোর্টের পর ১৫ লাখ টাকা নিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, “এসব অভিযোগ পুরোনো। আমি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানি। এর আগে দুদকে অভিযোগ করা একজন তাঁর অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। আমি আমার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করি। কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।” অন্যদিকে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেকোনো অভিযোগ এলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, সব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হয় এবং প্রাথমিক যাচাইয়ের পর তদন্ত শুরু করা হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

২০১০ সালের পর থেকে রংপুরে অধিক ফসলি জমি এবং ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের অভিযোগ আছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh