ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ১ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭৩ সমাজসেবায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন প্রেসিডেন্ট দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় ফের আটক আইসা সভাপতি নেহা বোরা সৌদি বিমানবন্দরে হুতি হামলা: ইয়েমেন অভিযানে যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের যশোরে নসিমন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবক নিহত, নিখোঁজ ১ হাসান মাহমুদের রেকর্ড হ্যাটট্রিকে ১০৬ রানের লিড পেল বাংলাদেশ সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুর নিরাপত্তা ও সুবিচারের দাবিতে মানববন্ধন খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি, স্থগিত পিটিআই সরকারের কার্যক্রম খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি করল পাকিস্তান

নতুন সাবমেরিন ক্যাবল না এলে বড় ব্যান্ডউইথ সংকটের পথে বাংলাদেশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার বিপরীতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে সিদ্ধান্তহীনতা বাংলাদেশকে বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো নতুন সক্ষমতা যুক্ত করা না গেলে আগামী দশকে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি বড় বাধার সম্মুখীন হতে পারে। সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার অদূরে টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান মাহমুদ শাহেদ সাবমেরিন ক্যাবলের ইতিহাস, ভবিষ্যৎ চাহিদা এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ওপর আলোকপাত করেন। মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম জানান, দেশে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হলে ইন্টারনেটের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং সেবার মান ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া বিলম্বকাল কমানো এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ১৩ বছরে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার প্রায় ২৬০ গুণ বেড়েছে। ২০১৩ সালে যেখানে ব্যবহার ছিল ৫০ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড, সেখানে ২০২৬ সালে তা প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ মূলত দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল—সি-মি-উই-৪ এবং সি-মি-উই-৫—এর ওপর নির্ভরশীল, যেগুলোর সক্ষমতা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬ ও ২ দশমিক ৫ টেরাবিট। অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবলের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র দুটি ক্যাবলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকির কারণ। প্রতিবেশী দেশ ভারত ১৯টি, মালয়েশিয়া ২৩টি, থাইল্যান্ড ১২টি এবং ফিলিপাইন ১৯টি ক্যাবলের সাথে যুক্ত থাকলেও বাংলাদেশের সংযোগ সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। ফলে কোনো একটি ক্যাবলে ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবায় বড় চাপ তৈরি হয়।

সরকারের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৬ চালু হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা যথেষ্ট হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সি-মি-উই-৪-এর কার্যকাল ২০৩০ সালে শেষ হতে যাওয়ায় ২০২৮ সালের মধ্যেই বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এই সংকট নিরসনে বেসরকারি খাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের অনুমোদনকে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রস্তাবিত ক্যাবলগুলো চালু হলে প্রায় ৫১ টেরাবিট অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত হয়ে দেশের মোট সক্ষমতা ৬৭ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানির নির্ভরতা কমাবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সাবমেরিন ক্যাবল পরিকল্পনা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও চালু করতে কয়েক বছর সময় লাগে। তাই সংকট দৃশ্যমান হওয়ার পর উদ্যোগ নিলে প্রয়োজনীয় সময়ে সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে। সিদ্ধান্তহীনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বড় ধরনের ডিজিটাল অবকাঠামোগত সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

কর্মশালায় জানানো হয়, গত এক দশকে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ২০১৩ সালে যেখানে ব্যবহার ছিল মাত্র ৫০ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড, ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৭৬ টেরাবিটে। ২০২০ সালে ১ দশমিক ৭৮, ২০২২ সালে ৪ দশমিক ২, ২০২৪ সালে ৬ দশমিক ৮৬ এবং ২০২৬ সালে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ১৩ বছরে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২৬০ গুণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি শুধু বর্তমান ব্যান্ডউইথ চাহিদা মেটানোর নয়; বরং ২০৩০ ও ২০৩৫ সালের বাংলাদেশের ডিজিটাল সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাবমেরিন ক্যাবল পরিকল্পনা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও চালু করতে কয়েক বছর সময় লাগে। তাই সংকট দৃশ্যমান হওয়ার পর উদ্যোগ নিলে প্রয়োজনীয় সময়ে সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে। সিদ্ধান্তহীনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বড় ধরনের ডিজিটাল অবকাঠামোগত সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন সাবমেরিন ক্যাবল না এলে বড় ব্যান্ডউইথ সংকটের পথে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০১:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার বিপরীতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে সিদ্ধান্তহীনতা বাংলাদেশকে বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো নতুন সক্ষমতা যুক্ত করা না গেলে আগামী দশকে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি বড় বাধার সম্মুখীন হতে পারে। সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার অদূরে টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান মাহমুদ শাহেদ সাবমেরিন ক্যাবলের ইতিহাস, ভবিষ্যৎ চাহিদা এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ওপর আলোকপাত করেন। মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম জানান, দেশে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হলে ইন্টারনেটের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং সেবার মান ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া বিলম্বকাল কমানো এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ১৩ বছরে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার প্রায় ২৬০ গুণ বেড়েছে। ২০১৩ সালে যেখানে ব্যবহার ছিল ৫০ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড, সেখানে ২০২৬ সালে তা প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ মূলত দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল—সি-মি-উই-৪ এবং সি-মি-উই-৫—এর ওপর নির্ভরশীল, যেগুলোর সক্ষমতা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬ ও ২ দশমিক ৫ টেরাবিট। অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবলের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র দুটি ক্যাবলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকির কারণ। প্রতিবেশী দেশ ভারত ১৯টি, মালয়েশিয়া ২৩টি, থাইল্যান্ড ১২টি এবং ফিলিপাইন ১৯টি ক্যাবলের সাথে যুক্ত থাকলেও বাংলাদেশের সংযোগ সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। ফলে কোনো একটি ক্যাবলে ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবায় বড় চাপ তৈরি হয়।

সরকারের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৬ চালু হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা যথেষ্ট হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সি-মি-উই-৪-এর কার্যকাল ২০৩০ সালে শেষ হতে যাওয়ায় ২০২৮ সালের মধ্যেই বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এই সংকট নিরসনে বেসরকারি খাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের অনুমোদনকে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রস্তাবিত ক্যাবলগুলো চালু হলে প্রায় ৫১ টেরাবিট অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত হয়ে দেশের মোট সক্ষমতা ৬৭ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানির নির্ভরতা কমাবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সাবমেরিন ক্যাবল পরিকল্পনা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও চালু করতে কয়েক বছর সময় লাগে। তাই সংকট দৃশ্যমান হওয়ার পর উদ্যোগ নিলে প্রয়োজনীয় সময়ে সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে। সিদ্ধান্তহীনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বড় ধরনের ডিজিটাল অবকাঠামোগত সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

কর্মশালায় জানানো হয়, গত এক দশকে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ২০১৩ সালে যেখানে ব্যবহার ছিল মাত্র ৫০ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড, ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৭৬ টেরাবিটে। ২০২০ সালে ১ দশমিক ৭৮, ২০২২ সালে ৪ দশমিক ২, ২০২৪ সালে ৬ দশমিক ৮৬ এবং ২০২৬ সালে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ১৩ বছরে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২৬০ গুণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি শুধু বর্তমান ব্যান্ডউইথ চাহিদা মেটানোর নয়; বরং ২০৩০ ও ২০৩৫ সালের বাংলাদেশের ডিজিটাল সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাবমেরিন ক্যাবল পরিকল্পনা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও চালু করতে কয়েক বছর সময় লাগে। তাই সংকট দৃশ্যমান হওয়ার পর উদ্যোগ নিলে প্রয়োজনীয় সময়ে সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে। সিদ্ধান্তহীনতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বড় ধরনের ডিজিটাল অবকাঠামোগত সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din