বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস
- আপডেট সময় : ১১:২৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে আজ ২১ আগস্ট পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস। প্রবীণদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও অবদানের প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দিবসটি পালন করা হয়। একই সঙ্গে বয়স্ক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করাও এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রবীণদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, পারিবারিক অবহেলা এবং নির্যাতনের মতো বিষয়গুলো এ দিবসে বিশেষ গুরুত্ব পায়। অনেক ক্ষেত্রেই প্রবীণরা পরিবার বা বাইরের মানুষের দ্বারা শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার হন, যা সমাজের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। অনেক সন্তান বা স্বজন প্রবীণ বাবা-মাকে দায়িত্বের বোঝা মনে করেন, আবার অনেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসন থেকে বঞ্চিত হন।
বিশ্বে প্রবীণ নাগরিক দিবস পালনের এই উদ্যোগটি ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান এক ঘোষণার মাধ্যমে আগস্টের তৃতীয় রোববারকে জাতীয় প্রবীণ নাগরিক দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেন। এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে হাউস জয়েন্ট রেজ্যুলেশন ১৩৮ পাস হয়, যা প্রেসিডেন্টকে এই দিবস ঘোষণার অনুমতি দেয়। রিগান তার ঘোষণায় প্রবীণদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাদের জীবনের শেষ পর্যায় যেন মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাটে, তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যার বার্ধক্য আগামী দশকগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে, বিশেষ করে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবীণদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও পারিবারিক সহায়তার মতো বিষয়গুলোকে নতুনভাবে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বয়স কখনো মানুষের মূল্য কমিয়ে দেয় না। বরং তাদের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সম্পদ হতে পারে। এ দিনে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।



























