ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১২ ইউনিট খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস মহাশূন্যে পৃথিবীর চেয়েও বাসযোগ্য গ্রহ থাকতে পারে, বিজ্ঞানীদের গবেষণা ইরানের বিরুদ্ধে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের বিহারের গঙ্গায় নৌকাডুবি: শিশুসহ নিহত ১৩ হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন সৌদি যুবরাজ সৌদি আরামকোর দাহরান কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আগুন বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৫ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টি, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জাপানি সাংবাদিক গ্রেপ্তার রিয়াদে প্রাণঘাতী হামলার আগে সৌদির আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কেন নীরব ছিল

ইসরায়েলি হামলায় গাজার ৯৭ শতাংশ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত: জাতিসংঘ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসনের ফলে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯৭ শতাংশ কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ৩ শতাংশ জমি কৃষকদের চাষাবাদের জন্য উপযোগী বা তাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘ স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউএনএসএটি) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর যৌথ পরিচালনায় এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের তুলনায় বর্তমানে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ এক-চতুর্থাংশের চেয়েও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

এফএও মঙ্গলবার 'ইউএন নিউজ'-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তথাকথিত 'ইয়েলো লাইন' বা হলুদ রেখা ক্রমাগত প্রসারিত হওয়ার ফলে কৃষকরা তাদের নিজেদের জমিতে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিধিনিষেধের কারণে গাজা উপত্যকার প্রায় ৫৫ শতাংশ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সরাসরি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এছাড়া গাজায় গ্রিনহাউস পদ্ধতি বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ফসল উৎপাদনের এলাকাও উদ্বেগজনক হারে কমেছে, যার মধ্যে দেইর আল-বালাহ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে।

এফএও-এর জরুরি পরিস্থিতি সংক্রান্ত কার্যালয়ের পরিচালক রেইন পলসেন বলেন, এই তথ্যগুলো গাজার কৃষি খাতের ক্রমাগত ভয়াবহ অবনতিকেই তুলে ধরছে। জমিতে প্রবেশাধিকার না থাকায় যেসব এলাকার কৃষি সম্পদ এখনো অক্ষত রয়েছে, সেখানেও খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, বীজ, সার, জ্বালানি, সেচ সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের তীব্র সংকট রয়েছে। এর ওপর উপকরণের প্রবেশ ও বিতরণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষি খাতের এই বিপর্যয়ের শিকার পশুপালকরাও। তারা পশুখাদ্য, ভেটেরিনারি সামগ্রী ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে যে সীমিত পরিমাণ কৃষি উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে, তা যেমন নিম্নমানের, তেমনি সাধারণ কৃষক পরিবারের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের ফলে গাজার কৃষিজমি, গ্রিনহাউস, পানির কূপ ও সেচ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে এবং কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এফএও কৃষকদের জমিতে নিরাপদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, জরুরি কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পুনর্বাসনের জন্য জরুরি ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি হামলায় গাজার ৯৭ শতাংশ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত: জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ০৯:০১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসনের ফলে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯৭ শতাংশ কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ৩ শতাংশ জমি কৃষকদের চাষাবাদের জন্য উপযোগী বা তাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘ স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউএনএসএটি) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর যৌথ পরিচালনায় এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের তুলনায় বর্তমানে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ এক-চতুর্থাংশের চেয়েও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

এফএও মঙ্গলবার 'ইউএন নিউজ'-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তথাকথিত 'ইয়েলো লাইন' বা হলুদ রেখা ক্রমাগত প্রসারিত হওয়ার ফলে কৃষকরা তাদের নিজেদের জমিতে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিধিনিষেধের কারণে গাজা উপত্যকার প্রায় ৫৫ শতাংশ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সরাসরি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এছাড়া গাজায় গ্রিনহাউস পদ্ধতি বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ফসল উৎপাদনের এলাকাও উদ্বেগজনক হারে কমেছে, যার মধ্যে দেইর আল-বালাহ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে।

এফএও-এর জরুরি পরিস্থিতি সংক্রান্ত কার্যালয়ের পরিচালক রেইন পলসেন বলেন, এই তথ্যগুলো গাজার কৃষি খাতের ক্রমাগত ভয়াবহ অবনতিকেই তুলে ধরছে। জমিতে প্রবেশাধিকার না থাকায় যেসব এলাকার কৃষি সম্পদ এখনো অক্ষত রয়েছে, সেখানেও খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, বীজ, সার, জ্বালানি, সেচ সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের তীব্র সংকট রয়েছে। এর ওপর উপকরণের প্রবেশ ও বিতরণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষি খাতের এই বিপর্যয়ের শিকার পশুপালকরাও। তারা পশুখাদ্য, ভেটেরিনারি সামগ্রী ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে যে সীমিত পরিমাণ কৃষি উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে, তা যেমন নিম্নমানের, তেমনি সাধারণ কৃষক পরিবারের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের ফলে গাজার কৃষিজমি, গ্রিনহাউস, পানির কূপ ও সেচ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে এবং কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এফএও কৃষকদের জমিতে নিরাপদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, জরুরি কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পুনর্বাসনের জন্য জরুরি ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh