ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অসুস্থ রিফাত চৌধুরীর পাশে জায়েদ খান, দিলেন আর্থিক সহায়তা জয়পুরহাটে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ শিবগঞ্জে বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচলেন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, পাশে ইউএনও ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ মন্তব্য করা ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পোর্টালে এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশ, তীব্র উদ্বেগ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ নতুন রোগী এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন

পরিবেশ যেভাবে মানুষের আবেগ ও আচরণকে প্রভাবিত করে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শৈশবে আমাদের মস্তিষ্ক অত্যন্ত দ্রুত শেখে। সেই সময়ে আমাদের চারপাশের কথাবার্তা, আচরণ এবং সামগ্রিক পরিবেশ মিলে আমাদের একটি 'সেলফ-ইমেজ' বা আত্মপরিচয় তৈরি করে। যদি শৈশবে বারবার শুনতে হয়, 'তুমি পারবে না' বা 'তুমি অন্যদের মতো নও', তবে এই নেতিবাচক কথাগুলোই পরবর্তী জীবনে আমাদের ভেতরের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। ফলে বড় হওয়ার পর আমরা নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক হয়ে উঠি।

পরিবেশ যে মানুষের আবেগ ও আচরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, তা একটি সহজ গবেষণার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব। কোনো শিশুকে প্রথমে একটি খেলনা দিলে সে আনন্দ পায়। কিন্তু এরপরই তার সামনে দুজনকে ঝগড়া করতে দেখলে এবং পরে আরেকটি খেলনা দিলে, সে আর আগের মতো আনন্দ পায় না। অথচ তাকে সরাসরি কেউ বকা দেয়নি বা বিরক্ত করেনি, কেবল চারপাশের পরিবেশ পরিবর্তনের কারণেই তার আচরণ ও আবেগ বদলে গেছে। একেই বলা হয় এনভায়রনমেন্টাল সাইকোলজিক্যাল প্রভাব।

আমাদের জীবনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে চাইলে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝগড়া-বিবাদ, কটুকথা ও নিরুৎসাহমূলক মন্তব্যের মধ্যে মনোবল ধরে রাখা কঠিন। মানুষের চিন্তা, আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। তবে পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ব্যক্তিত্ব গঠনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। উৎসাহ, সমর্থন ও ইতিবাচকতা পেলে একজন মানুষ তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা প্রকাশ করতে পারে, ঠিক যেভাবে সঠিক পরিবেশে একটি চারাগাছ মহীরুহে পরিণত হয়।

শৈশবের অভিজ্ঞতাগুলো বয়স বাড়ার পরেও আমাদের ভেতরে থেকে যায়। আমাদের ভয়, আত্মবিশ্বাস ও সম্পর্কের ধরন শৈশবের সেই পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। শৈশবে যে শিশু নিয়মিত ভালোবাসা ও স্বীকৃতি পায়, ভুল করলে অপমানিত না হয়ে বোঝাপড়া পায় এবং তুলনার বদলে উৎসাহ পায়, সে সাধারণত বড় হয়ে নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। সে নিজের সীমা নির্ধারণ করতে পারে, 'না' বলতে পারে এবং 'আমি যেমন, তেমনভাবেই মূল্যবান'—এই বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে ওঠে।

অন্যদিকে, যে শিশু বারবার সমালোচিত হয়েছে, অন্যদের সাথে তুলনার শিকার হয়েছে অথবা কেবল ভালো ফল করলেই প্রশংসা পেয়েছে, সে বড় হয়ে নিজের প্রতি আস্থাহীনতায় ভোগে। এর ফলে তার মধ্যে সবসময় অন্যকে খুশি করার প্রবণতা, ছোট সমালোচনায় ভেঙে পড়া, নিজের সাফল্যে অবিশ্বাস, সম্পর্ক হারানোর অতিরিক্ত ভয় এবং নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দেওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য দেখা দেয়। এগুলো চরিত্রের দুর্বলতা নয়, বরং 'ইনার চাইল্ড'-এর অপূর্ণ চাহিদার প্রতিফলন।

আমরা যাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাই, ধীরে ধীরে তাদের অভ্যাস ও মানসিকতার ছাপ আমাদের মধ্যেও পড়ে। নেতিবাচক মানুষের সঙ্গে থাকলে মনও নেতিবাচক হয়ে পড়ে, আবার ইতিবাচক ও পরিশ্রমী মানুষের সঙ্গে থাকলে উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়। তাই জীবনে ভালো পরিবেশ ও ভালো মানুষ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ— “Your environment slowly becomes your personality.” যদি সঠিক পরিবেশ না পান, তবে নিজের ভেতরে 'আমি পারব'—এই বিশ্বাস জাগিয়ে তুলে নিজেই নিজের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

পরিবেশ যেভাবে মানুষের আবেগ ও আচরণকে প্রভাবিত করে

আপডেট সময় : ০২:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

শৈশবে আমাদের মস্তিষ্ক অত্যন্ত দ্রুত শেখে। সেই সময়ে আমাদের চারপাশের কথাবার্তা, আচরণ এবং সামগ্রিক পরিবেশ মিলে আমাদের একটি 'সেলফ-ইমেজ' বা আত্মপরিচয় তৈরি করে। যদি শৈশবে বারবার শুনতে হয়, 'তুমি পারবে না' বা 'তুমি অন্যদের মতো নও', তবে এই নেতিবাচক কথাগুলোই পরবর্তী জীবনে আমাদের ভেতরের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। ফলে বড় হওয়ার পর আমরা নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক হয়ে উঠি।

পরিবেশ যে মানুষের আবেগ ও আচরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, তা একটি সহজ গবেষণার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব। কোনো শিশুকে প্রথমে একটি খেলনা দিলে সে আনন্দ পায়। কিন্তু এরপরই তার সামনে দুজনকে ঝগড়া করতে দেখলে এবং পরে আরেকটি খেলনা দিলে, সে আর আগের মতো আনন্দ পায় না। অথচ তাকে সরাসরি কেউ বকা দেয়নি বা বিরক্ত করেনি, কেবল চারপাশের পরিবেশ পরিবর্তনের কারণেই তার আচরণ ও আবেগ বদলে গেছে। একেই বলা হয় এনভায়রনমেন্টাল সাইকোলজিক্যাল প্রভাব।

আমাদের জীবনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে চাইলে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝগড়া-বিবাদ, কটুকথা ও নিরুৎসাহমূলক মন্তব্যের মধ্যে মনোবল ধরে রাখা কঠিন। মানুষের চিন্তা, আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। তবে পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ব্যক্তিত্ব গঠনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। উৎসাহ, সমর্থন ও ইতিবাচকতা পেলে একজন মানুষ তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা প্রকাশ করতে পারে, ঠিক যেভাবে সঠিক পরিবেশে একটি চারাগাছ মহীরুহে পরিণত হয়।

শৈশবের অভিজ্ঞতাগুলো বয়স বাড়ার পরেও আমাদের ভেতরে থেকে যায়। আমাদের ভয়, আত্মবিশ্বাস ও সম্পর্কের ধরন শৈশবের সেই পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। শৈশবে যে শিশু নিয়মিত ভালোবাসা ও স্বীকৃতি পায়, ভুল করলে অপমানিত না হয়ে বোঝাপড়া পায় এবং তুলনার বদলে উৎসাহ পায়, সে সাধারণত বড় হয়ে নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। সে নিজের সীমা নির্ধারণ করতে পারে, 'না' বলতে পারে এবং 'আমি যেমন, তেমনভাবেই মূল্যবান'—এই বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে ওঠে।

অন্যদিকে, যে শিশু বারবার সমালোচিত হয়েছে, অন্যদের সাথে তুলনার শিকার হয়েছে অথবা কেবল ভালো ফল করলেই প্রশংসা পেয়েছে, সে বড় হয়ে নিজের প্রতি আস্থাহীনতায় ভোগে। এর ফলে তার মধ্যে সবসময় অন্যকে খুশি করার প্রবণতা, ছোট সমালোচনায় ভেঙে পড়া, নিজের সাফল্যে অবিশ্বাস, সম্পর্ক হারানোর অতিরিক্ত ভয় এবং নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দেওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য দেখা দেয়। এগুলো চরিত্রের দুর্বলতা নয়, বরং 'ইনার চাইল্ড'-এর অপূর্ণ চাহিদার প্রতিফলন।

আমরা যাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাই, ধীরে ধীরে তাদের অভ্যাস ও মানসিকতার ছাপ আমাদের মধ্যেও পড়ে। নেতিবাচক মানুষের সঙ্গে থাকলে মনও নেতিবাচক হয়ে পড়ে, আবার ইতিবাচক ও পরিশ্রমী মানুষের সঙ্গে থাকলে উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়। তাই জীবনে ভালো পরিবেশ ও ভালো মানুষ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ— “Your environment slowly becomes your personality.” যদি সঠিক পরিবেশ না পান, তবে নিজের ভেতরে 'আমি পারব'—এই বিশ্বাস জাগিয়ে তুলে নিজেই নিজের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh