রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে বাড়ছে ভাড়াটে খুনিদের দৌরাত্ম্য
- আপডেট সময় : ০৫:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংঘাত। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো ঘটনায় ভাড়াটে খুনি বা ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’য়ের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ৪০১ জন ভাড়াটে শুটার সক্রিয় রয়েছে, যা জনমনে নতুন করে ভীতির সঞ্চার করেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে ২৪ জুলাই রাতে মিরপুরের কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফ আলীর হত্যাকাণ্ড অন্যতম। ডিবি তদন্তে দেখা গেছে, স্থানীয় আধিপত্য, টেন্ডার ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চারজন পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল। যদিও প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু অন্য কেউ ছিল, কিন্তু বাগবিতণ্ডার জেরে ইউসুফ নিহত হন। এ ঘটনায় প্রধান শুটার চঞ্চল মোল্যাসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে ১২ জুন পশ্চিম রামপুরায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়, যেখানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি সামনে আসে। এছাড়া ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটে শুটার ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। ৭ জানুয়ারি কাওরান বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের পেছনেও ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে চাঁদাবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বিরোধ পাওয়া গেছে। এছাড়া গুলশান-বাড্ডা এলাকায় ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও বিএনপি নেতা সাধন হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলোতে বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশনার প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দারা।
ডিএমপির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগের মধ্যে মতিঝিল বিভাগে সবচেয়ে বেশি শুটার সক্রিয়, যার সংখ্যা ১১৮ জন। এর মধ্যে শুধু মতিঝিল থানাতেই ১০৬ জন তালিকাভুক্ত শুটার রয়েছে। এছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৭৩, তেজগাঁওয়ে ৬১, মিরপুরে ৬০, রমনায় ৩৬, লালবাগে ২৪, গুলশানে ১৬ এবং উত্তরায় ১৩ জন ভাড়াটে শুটারের তথ্য রয়েছে। ডিএমপি এই তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রাজধানীতে ১২২টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অন্তত ৯টি ছিল পরিকল্পিত কন্ট্রাক্ট কিলিং।
এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বরং সংঘবদ্ধ অপরাধ। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকায় এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক স্বার্থে অনেক সময় এসব অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পেশাদার খুনিদের তালিকা প্রতিনিয়ত আপডেট করা হচ্ছে এবং অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।





























