দিল্লিতে তেলাপোকা পার্টির সংসদ অভিযান ঘিরে তুমুল উত্তেজনা

- আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

দিল্লিতে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিনে এই কর্মসূচি ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দিল্লির রাজপথ। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা যখন সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন, ঠিক তখনই সিজেপির ডাকে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এই অভিযানে শামিল হন।
বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশ ও আধাসেনার প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। মিছিল আটকাতে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে এবং লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে সোমবার দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যান। নিরাপত্তার স্বার্থে এ সময় সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিজেপি নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ দমনপীড়নমূলক আচরণ করেছে। অন্যদিকে পুলিশ দাবি করেছে, এই কর্মসূচির জন্য কোনো পূর্ব অনুমতি নেওয়া হয়নি। বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেকেই বর্ষাতি পরে জাতীয় পতাকা ও সংবিধান হাতে মিছিলে অংশ নেন। কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২০ হাজার মানুষ, যাদের বেশিরভাগই ছাত্র ও যুবসমাজ, এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি সংসদের ভেতরেও এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলীয় সাংসদরা। দুই কক্ষেই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনুদান চুরি নিয়ে আলোচনার দাবি তুলে স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধীরা। হট্টগোলের জেরে স্পিকার এদিনের মতো অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
সিজেপির এই আন্দোলনের সমর্থনে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করা লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গত শনিবার জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সোমবার তিনি হাসপাতাল থেকেই এই সংসদ অভিযানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবশেষে তেলাপোকা জনতা পার্টির সাথে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে সরকার। সোমবার সংসদ অভিযান চলাকালেই সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিপত্র জমা দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ মহলে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।




























