শান্তিগঞ্জে ৭৬ কোটির সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ, ধুলার দুর্ভোগে জনজীবন
- আপডেট সময় : ১২:৩০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদর এখন ধুলার শহরে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত চার লেন সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকায় স্থানীয় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট থেকে বিটাক পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালু, মাটি ও খোয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এম এম বিল্ডার্স’। ২০২৫ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তবে কাজের মেয়াদ মাঝামাঝি পর্যায়ে পৌঁছালেও হঠাৎ ভিটি বালুর সংকট দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সড়কে ধুলার কারণে শান্তিগঞ্জ পয়েন্ট, উপজেলা পরিষদ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানগুলোতে প্রতিদিন ধুলার পুরু স্তর জমে থাকছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচলের সময় ধুলার প্রবল ঝড় ওঠে। শান্তিগঞ্জ বাজারের ফল বিক্রেতা আব্দুল লতিফ জানান, মাস্ক পরেও ধুলা থেকে বাঁচা যাচ্ছে না। ফলের ওপর সারাক্ষণ ধুলার আস্তরণ পড়ে থাকায় ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না, যার ফলে দোকান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অটোরিকশাচালক নুর মিয়া জানান, ধুলার কারণে সামনের পথ কিছুই দেখা যায় না। যাত্রী নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। তিনি অন্তত দিনে দুই থেকে তিনবার সড়কটিতে পানি ছিটানোর দাবি জানিয়েছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাবিক আল হাসান জানান, প্রকল্পের সিংহভাগ ঢালাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মূলত ভিটি বালুর সংকট তৈরি হওয়ায় সাময়িকভাবে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। বালুর সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ামাত্রই আবার পুরোদমে কাজ শুরু হবে। তবে ধুলা নিয়ন্ত্রণে একটি পানির গাড়ি সব সময় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমাতে এবং ধুলা বন্ধে সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানোর জন্য ঠিকাদারকে আবারও কঠোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ১৩আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ১৯
























