ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের অগ্রবর্তী দল বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৪৫তম বিসিএস গেজেট থেকে বাদ পড়াদের শাহবাগে আত্মাহুতির হুমকি ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে চতুর্থ অর্থনীতি হচ্ছে ভারত নেত্রকোনায় দোকানে বসে থাকা সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে: এসআরবি ডিজি যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের অনীহাই বড় বাধা: ক্রেমলিন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও কমিটি গঠন স্থগিত লালমোহনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সচেতনতামূলক প্রচারণা যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে গ্রেপ্তার ৫

মহাসড়কের পাশে অব্যবহৃত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ সরকারের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর পাশে বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এই কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার একটি অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ রাখা হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মহাসড়কের পাশের খালি জায়গায় নতুন প্রকল্পের আওতায় এ ধরনের কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে সংস্থান করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের প্রাণহানি কমাতে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে এগুলো বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। বর্তমানে এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে এবং একটি জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মূলত মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ের গুরুতর আঘাতের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।

সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টারটি এমন একটি কেন্দ্র, যা প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালে নির্মিত হয়েছিল। ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য এটি অস্থায়ীভাবে চালু করা হয়েছিল, যা পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী, রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪ জন চিকিৎসক, ১০ জন নার্সসহ প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান থাকার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এটিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মহাসড়কের পাশে অব্যবহৃত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ সরকারের

আপডেট সময় : ১২:২৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর পাশে বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এই কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার একটি অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ রাখা হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মহাসড়কের পাশের খালি জায়গায় নতুন প্রকল্পের আওতায় এ ধরনের কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে সংস্থান করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের প্রাণহানি কমাতে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে এগুলো বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। বর্তমানে এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে এবং একটি জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মূলত মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ের গুরুতর আঘাতের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।

সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টারটি এমন একটি কেন্দ্র, যা প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালে নির্মিত হয়েছিল। ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য এটি অস্থায়ীভাবে চালু করা হয়েছিল, যা পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী, রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪ জন চিকিৎসক, ১০ জন নার্সসহ প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান থাকার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এটিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh