রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগ, নিরাপত্তা জোরদারে চেকপোস্ট
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে পল্টনে সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এর কিছুক্ষণ আগে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন এলাকায়ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীতে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন রিকশাচালক আহত হন, তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ফ্লাইওভার থেকে ককটেলগুলো নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে।
একই সময়ে রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, বাড্ডা, মাতুয়াইল ও কদমতলীতে অন্তত পাঁচটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মিরপুর-১১ নম্বরে চলন্ত শিকড় পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগে। একই সময়ে মিরপুর-১ এলাকায় অভিজাত পরিবহনের একটি বাস এবং বাড্ডায় আরেকটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। মিরপুর-১১-এর ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে শুক্রবারও যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, আগারগাঁও ও মালিবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছিল। যাত্রাবাড়ীতে থানার সামনে ও আশপাশে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশাচালক আহত হয়েছিলেন।
এসব ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, ফ্লাইওভার ও রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে দুই শতাধিক বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পুলিশি টহল, পিকেট ডিউটি, থানা মোবাইল প্যাট্রোল ও হোন্ডা প্যাট্রোল বাড়ানো হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও এপিবিএনের সদস্যদেরও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির বিভিন্ন অভিযানে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অভিযোগে ৪৭টি মামলা হয়েছে। ওই অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, গুলি, দেশীয় অস্ত্র এবং বিস্ফোরিত ককটেল থেকে লোহার পেরেক উদ্ধারের তথ্যও জানিয়েছে পুলিশ। যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পৃথক মামলা ও জিডি করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে।

























