ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের মিছিল ঘিরে দেশজুড়ে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি ৫১তম বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

খুলনায় চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যা করা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



খুলনায় চুরির অপবাদ দিয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হল রোডের সামনের একটি ছাত্রাবাসে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. আজমল হোসেন (২২)। তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

আজমল চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীত পাশের গলিতে আকিব নামের এক ব্যক্তির পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলার একটি মেসে থাকতেন আজমল। সেখানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি উপ-ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ওই মেস থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান পাশের ভবনের বাসিন্দারা। পরে জানা যায়, মেসের অন্য এক সদস্যের ভাত খেয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে আজমলকে ছাদে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী registrar মো. কনক হোসেন জানান, শুক্রবার রাত পৌনে একটার দিকে আজমলকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মাথার চুল কাটা ছিল। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতির সময় তাঁর মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে আজমলের বাবা কুতুব উদ্দিন শনিবার ভোরে খুলনায় পৌঁছান। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে আজমল ফোনে তাঁকে জানিয়েছিল যে মেসে তাঁর বিরুদ্ধে ভাত চুরি করে খাওয়া এবং টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ জন্য তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। কুতুব উদ্দিন বলেন, ফোনে অপর প্রান্ত থেকে কয়েকজন তাঁকে বলেন, "চাচা, আপনার ছেলে এমন করসে, আপনি এক লাখ টাকা নিয়ে চলে আসেন।" এরপর তিনি ট্রেনে করে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথে বারবার চেষ্টা করেও ছেলের ফোন বন্ধ পান। খুলনায় এসে মেসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

হাসপাতালে ছেলের লাশ পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন কুতুব উদ্দিন। তবে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিসি। আমি চাস্সি না যে, আমি কোর্ট–কাচারি করবো। বিচার করবেন তিনি (আল্লাহ)। আমার কোনো অভিযোগ নাই। চাস্সি না যে আমাক ছেলেকে কাটাকুটি করুক। কাটাকুটি বাদে যাতে আমি যেতে পারি, এমন একটা ডিসিশন নিসসি।"

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার জানান, আজমলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, চুরির অভিযোগে মারধরের একপর্যায়ে ওই ছাত্র ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহত তরুণের পরিবার মামলা করতে রাজি না হলেও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

অনেক খোঁজার পরে এক মুরব্বি চাচা বলল, “বাবা, আপনার ছেলেকে রুমের যে লোক ছিল ওরা মাইরে ফেলেছে”।’এরপর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ পান বলে জানান কুতুব উদ্দিন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনায় চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যা করা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে

আপডেট সময় : ১১:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনায় চুরির অপবাদ দিয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হল রোডের সামনের একটি ছাত্রাবাসে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. আজমল হোসেন (২২)। তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

আজমল চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীত পাশের গলিতে আকিব নামের এক ব্যক্তির পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলার একটি মেসে থাকতেন আজমল। সেখানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি উপ-ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ওই মেস থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান পাশের ভবনের বাসিন্দারা। পরে জানা যায়, মেসের অন্য এক সদস্যের ভাত খেয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে আজমলকে ছাদে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী registrar মো. কনক হোসেন জানান, শুক্রবার রাত পৌনে একটার দিকে আজমলকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মাথার চুল কাটা ছিল। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রস্তুতির সময় তাঁর মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে আজমলের বাবা কুতুব উদ্দিন শনিবার ভোরে খুলনায় পৌঁছান। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে আজমল ফোনে তাঁকে জানিয়েছিল যে মেসে তাঁর বিরুদ্ধে ভাত চুরি করে খাওয়া এবং টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ জন্য তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। কুতুব উদ্দিন বলেন, ফোনে অপর প্রান্ত থেকে কয়েকজন তাঁকে বলেন, "চাচা, আপনার ছেলে এমন করসে, আপনি এক লাখ টাকা নিয়ে চলে আসেন।" এরপর তিনি ট্রেনে করে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথে বারবার চেষ্টা করেও ছেলের ফোন বন্ধ পান। খুলনায় এসে মেসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

হাসপাতালে ছেলের লাশ পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন কুতুব উদ্দিন। তবে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিসি। আমি চাস্সি না যে, আমি কোর্ট–কাচারি করবো। বিচার করবেন তিনি (আল্লাহ)। আমার কোনো অভিযোগ নাই। চাস্সি না যে আমাক ছেলেকে কাটাকুটি করুক। কাটাকুটি বাদে যাতে আমি যেতে পারি, এমন একটা ডিসিশন নিসসি।"

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার জানান, আজমলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, চুরির অভিযোগে মারধরের একপর্যায়ে ওই ছাত্র ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহত তরুণের পরিবার মামলা করতে রাজি না হলেও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

অনেক খোঁজার পরে এক মুরব্বি চাচা বলল, “বাবা, আপনার ছেলেকে রুমের যে লোক ছিল ওরা মাইরে ফেলেছে”।’এরপর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ পান বলে জানান কুতুব উদ্দিন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo