রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যে কাফরুলে বাসে আগুন
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার দিনভর দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকসহ শহরের মোট ছয়টি স্থানে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, যাত্রাবাড়ীর বিস্ফোরণগুলো উড়ালসড়ক থেকে ঘটানো হয়েছে। তবে কারা বা কেন এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।
বিস্ফোরণের এই ধারাবাহিকতার মধ্যে রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার। তিনি জানান, থানা–সংলগ্ন এলাকায় বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই রামপুরায় বিটিভি ভবনের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরের পর থেকে মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। আগারগাঁও ছাড়া বাকি স্থানগুলোতে উড়ালসড়কের ওপর থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে পুলিশ মনে করছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ বলছে, কিছুদিন ধরেই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে আসছেন। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতা–কর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল করেন এবং সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গুলশানের ওই ঘটনার পর ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২-এর রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।


























