ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে, এবার ৪ দিনের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী তুরস্কের শানলিউরফায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের মিছিল ঘিরে দেশজুড়ে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি ৫১তম বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

থানচির বলিবাজারে ফের ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ১৩ দোকান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বান্দরবানের থানচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বলিবাজারে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার ভোর ৪টার দিকে লাগা এই আগুনে ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বারবার একই বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় বাজারের অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যবসায়ীদের অসচেতনতা ও কাঠামোগত অব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শেষরাতে বাজারের দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরীরা হঠাৎ একটি দোকানে আগুনের শিখা দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন চারপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে ১৩টি দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ড এখন এক নিয়মিত দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, এর আগে ২০২০ সালে এক ভয়াবহ আগুনে বাজারটির ১০৯টি দোকান পুড়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে ৫০টি এবং ২০২৫ সালেও ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়। আর চলতি ২০২৬ সালে আবারও ১৩টি দোকান পুড়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। বারবার এই ক্ষয়ক্ষতিের কারণে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন বলিপাড়ার ব্যবসায়ীরা।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে জানা গেছে, বলিবাজারে গভীর রাত পর্যন্ত কিছু দোকান খোলা থাকে। কাজ শেষে তাড়াহুড়া করে বন্ধ করার সময় অনেক মালিক দোকানে বৈদ্যুতিক ফ্যান, ফ্রিজ বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি অনিরাপদ অবস্থায় চালু রেখেই চলে যান। রাতে দোকানে কেউ না থাকায় ভেতরের কোনো ত্রুটি বা শর্টসার্কিট দ্রুত বড় অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়।

এদিকে বলিবাজারে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই বাজারের অধিকাংশ বড় ব্যবসায়ীই বাঙালি। কেন এখানে বারবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে, তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা উচিত।

বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। বারবার এ ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মাস্টার রহিদুল ইসলাম মৃধা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে বারবার সতর্ক করার পরও বাজারে পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ভোর ০৩: ৪০ মিনিটে (18 September 2026, 03:40) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

থানচির বলিবাজারে ফের ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ১৩ দোকান

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বান্দরবানের থানচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বলিবাজারে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার ভোর ৪টার দিকে লাগা এই আগুনে ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বারবার একই বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় বাজারের অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যবসায়ীদের অসচেতনতা ও কাঠামোগত অব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শেষরাতে বাজারের দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরীরা হঠাৎ একটি দোকানে আগুনের শিখা দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন চারপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে ১৩টি দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ড এখন এক নিয়মিত দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, এর আগে ২০২০ সালে এক ভয়াবহ আগুনে বাজারটির ১০৯টি দোকান পুড়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে ৫০টি এবং ২০২৫ সালেও ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়। আর চলতি ২০২৬ সালে আবারও ১৩টি দোকান পুড়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। বারবার এই ক্ষয়ক্ষতিের কারণে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন বলিপাড়ার ব্যবসায়ীরা।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে জানা গেছে, বলিবাজারে গভীর রাত পর্যন্ত কিছু দোকান খোলা থাকে। কাজ শেষে তাড়াহুড়া করে বন্ধ করার সময় অনেক মালিক দোকানে বৈদ্যুতিক ফ্যান, ফ্রিজ বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি অনিরাপদ অবস্থায় চালু রেখেই চলে যান। রাতে দোকানে কেউ না থাকায় ভেতরের কোনো ত্রুটি বা শর্টসার্কিট দ্রুত বড় অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়।

এদিকে বলিবাজারে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই বাজারের অধিকাংশ বড় ব্যবসায়ীই বাঙালি। কেন এখানে বারবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে, তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা উচিত।

বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। বারবার এ ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মাস্টার রহিদুল ইসলাম মৃধা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে বারবার সতর্ক করার পরও বাজারে পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ভোর ০৩: ৪০ মিনিটে (18 September 2026, 03:40) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh