নেত্রকোনায় ‘অপহৃত’ বৃষ্টি উদ্ধার, পুলিশকে জানালেন স্বেচ্ছায় যাওয়ার কথা
- আপডেট সময় : ০১:২৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার মদনে ছোট বোনকে মারধর করে বড় বোন বৃষ্টি আক্তারকে (১৭) প্রকাশ্যে অপহরণের অভিযোগ ওঠার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে উদ্ধারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বৃষ্টি জানিয়েছেন, তিনি অপহৃত হননি বরং দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্বেচ্ছায় প্রেমিক শিহাব হোসেনের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। এছাড়া বৃষ্টির ছোট বোন শ্রাবন্তীকে ছুরিকাঘাতের যে অভিযোগ উঠেছিল, তাও নাকচ করে দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন করিম। এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে নেত্রকোনা জেলা বাস টার্মিনাল থেকে বৃষ্টিকে উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্ত শিহাব মিয়াকে (২৪) এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পলাতক শিহাব মদন দক্ষিণপাড়ার আবুল হাসানের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মদন উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এই ঘটনা ঘটে। মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদমশ্রী নওধার গ্রামের আলীম উদ্দিনের বড় মেয়ে বৃষ্টি আক্তার তার ছোট বোন শ্রাবন্তী আক্তার (১৩) ও ৪ বছর বয়সী ভাতিজা ইমরানকে সঙ্গে নিয়ে মদন সদরে এসেছিলেন। মদন আদর্শ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে নবম শ্রেণির ফরম পূরণ করার কথা ছিল বৃষ্টির।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে যাওয়ার সময় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রাবন্তীকে ছুরিকাঘাত করে শিহাব নামের এক যুবক বৃষ্টিকে তুলে নিয়ে যান। ওই দিন রাতেই বৃষ্টির বড় ভাই সাগর মিয়া বাদী হয়ে শিহাবকে আসামি করে মদন থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযানে নামে পুলিশ এবং নেত্রকোনা জেলা বাস টার্মিনাল থেকে বৃষ্টিকে উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বৃষ্টি আক্তার ও শিহাব সম্পর্কে খালাতো ভাই-বোন। প্রায় দুই বছর আগে তাদের উভয় পরিবারই চট্টগ্রামে বসবাস করত। পরে বৃষ্টির বাবা-মা মদনে চলে আসলেও বৃষ্টি তার খালার বাসায় অর্থাৎ শিহাবদের বাড়িতেই থেকে যান। সেখানে থাকাকালীন তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের আলোচনা হলেও মেয়ের পরিবার রাজি না হওয়ায় তা ভেস্তে যায়। ঘটনার দিন শিহাব চট্টগ্রাম থেকে মদনে এসে বৃষ্টিকে নিয়ে যান।
মদন থানার ওসি সালাউদ্দিন করিম জানান, ভিকটিম বৃষ্টি আক্তার বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বেচ্ছায় শিহাবের সঙ্গে চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে শিহাবের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ছোট বোন শ্রাবন্তীকে ছুরিকাঘাতের বিষয়টি সত্য নয় উল্লেখ করে ওসি জানান, বৃষ্টি শিহাবের সাথে চলে যাওয়ার পর তাদের বড় ভাই রাগান্বিত হয়ে শ্রাবন্তীকে শাসন করতে গেলে অসাবধানতাবশত একটি দুর্ঘটনা ঘটে, যা কোনো ছুরিকাঘাতের ঘটনা ছিল না।
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ৪২আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ২০



























