কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষকদের ক্ষোভ, দীর্ঘ লাইনেও মিলছে না সার
- আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ৫৭। চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় তীব্র সারের সংকট দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার কোদালকাটি ইউনিয়নে মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের খবর শুনে ভোর ৩টা থেকেই হাজার হাজার কৃষক লাইনে জড়ো হতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই সার না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় বাড়ি ফিরেছেন।
সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরুষ ও নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও, পরবর্তীতে কয়েক হাজার কৃষকের সমাগম ঘটলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিড় সামলাতে পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে হয়। লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরও সার না পাওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
চরসাজাই গ্রামের কৃষক তাইছার আহমেদ বলেন, সার পাওয়ার আশায় ভোর ৫টায় লাইনে এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ আগে থেকেই অপেক্ষা করছে। প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। তিনি কৃষি বিভাগের সারের ঘাটতি না থাকার দাবির বিপরীতে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সুরমান ও সাদেক আলী নামের আরও দুই কৃষক জানান, ভোর ৩টা থেকে লাইনে থেকেও তারা সার পাননি। তাদের দাবি, ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ হাজার বস্তা সারের চাহিদা থাকলেও বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৫৬০ বস্তা। তারা আশঙ্কা করছেন, সার না পেলে এবারের ধানের আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টের পরিচালক ফজলুর রহমান জানান, তাদের ৪৬ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে ১৮ টন এবং মঙ্গলবার ২৮ টন বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়নে মাত্র দুইজন ডিলার থাকায় কৃষকদের প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী ও কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের কৃষকরা সামনে ভুট্টা চাষের জন্য সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তিনি আরও জানান, ভুট্টা ও আলুর জন্য ভবিষ্যতে আরও বেশি সার বরাদ্দ দেওয়া হবে।


























