ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ঈশার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠার দোকান এলাকার নাথপাড়ার বাসিন্দা সুনীল কান্তি দাশের সংসারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর ১২ বছর বয়সী ছোট মেয়ে ঈশা রানী দাশ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। ঈশা ছদাহার কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বড় বোন আদিত্যা রানী দাশও (১৬) একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই বোন সাধারণত একসাথেই স্কুলে আসা-ওয়া করত। সেই রাস্তা ধরে আরও ৫০০ মিটার যাওয়ার পর নাথপাড়া। গত সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, একতলা পাকা ঘর সুনীল কান্তি দাশের।

ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে টিফিনের বিরতি চলাকালীন ঈশা স্কুলের অদূরে একটি দোকান থেকে শিঙাড়া কিনতে বের হয়েছিল। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় চট্টগ্রামমুখী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে নগরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ঈশার বাবা সুনীল কান্তি দাশ (৫২) দীর্ঘদিন ওমানে প্রবাসে ছিলেন। সেখানে স্ট্রোক করার পর গত বছর তিনি দেশে ফেরেন। এই অসুস্থতার কারণে তাঁর একটি পা পুরোপুরি অসাড় হয়ে পড়েছে এবং অন্য পায়েও শক্তি নেই, যার ফলে তিনি চলাফেরায় অক্ষম। মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তার মা উষা রানী দাশ জানান, মেয়েটি প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে তাকে জড়িয়ে ধরত। দুপুরের ঘটনার পর ফেসবুকে মেয়ের রক্তাক্ত ছবি দেখে তিনি খবর পান এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে ছুটে যান, কিন্তু মেয়েকে আর জীবিত পাননি।

ঈশার চাচা ও ঠাকুরদিঘি পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ জানান, প্রবাস থেকে ফেরার পর অভাবের সংসারেও সুনীল কান্তি দাশ দুই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত হবে—এই স্বপ্নই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন।

ঈশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে তারা প্রায় আড়াই ঘণ্টা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসটি ভাঙচুর করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ঈশার

আপডেট সময় : ০১:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠার দোকান এলাকার নাথপাড়ার বাসিন্দা সুনীল কান্তি দাশের সংসারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর ১২ বছর বয়সী ছোট মেয়ে ঈশা রানী দাশ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। ঈশা ছদাহার কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বড় বোন আদিত্যা রানী দাশও (১৬) একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই বোন সাধারণত একসাথেই স্কুলে আসা-ওয়া করত। সেই রাস্তা ধরে আরও ৫০০ মিটার যাওয়ার পর নাথপাড়া। গত সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, একতলা পাকা ঘর সুনীল কান্তি দাশের।

ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে টিফিনের বিরতি চলাকালীন ঈশা স্কুলের অদূরে একটি দোকান থেকে শিঙাড়া কিনতে বের হয়েছিল। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় চট্টগ্রামমুখী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে নগরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ঈশার বাবা সুনীল কান্তি দাশ (৫২) দীর্ঘদিন ওমানে প্রবাসে ছিলেন। সেখানে স্ট্রোক করার পর গত বছর তিনি দেশে ফেরেন। এই অসুস্থতার কারণে তাঁর একটি পা পুরোপুরি অসাড় হয়ে পড়েছে এবং অন্য পায়েও শক্তি নেই, যার ফলে তিনি চলাফেরায় অক্ষম। মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তার মা উষা রানী দাশ জানান, মেয়েটি প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে তাকে জড়িয়ে ধরত। দুপুরের ঘটনার পর ফেসবুকে মেয়ের রক্তাক্ত ছবি দেখে তিনি খবর পান এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে ছুটে যান, কিন্তু মেয়েকে আর জীবিত পাননি।

ঈশার চাচা ও ঠাকুরদিঘি পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ জানান, প্রবাস থেকে ফেরার পর অভাবের সংসারেও সুনীল কান্তি দাশ দুই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত হবে—এই স্বপ্নই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন।

ঈশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে তারা প্রায় আড়াই ঘণ্টা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসটি ভাঙচুর করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo