ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া রেলস্টেশনে যাত্রীছাউনি নেই, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
- আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ২৫
ঠাকুরগাঁওয়ের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী রুহিয়া রেলস্টেশনে দীর্ঘ বছর ধরে কোনো যাত্রীছাউনি ও বিশ্রামাগার না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি ব্যবহার করে প্রতিদিন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া এবং পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হাজারো মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন।
দিনাজপুর-পঞ্চগড় ডুয়েলগেজ রুটে চলাচলকারী একতা, দ্রুতযান, দোলনচাঁপা ও বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে রুহিয়া স্টেশনে। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী এই স্টেশন দিয়ে ওঠানামা করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। স্টেশনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর কোনো পৃথক বিশ্রামাগার নেই। এমনকি প্ল্যাটফর্মে বসার আসনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন ক্রসিংয়ের সময় অধিকাংশ ট্রেন দুই নম্বর লাইনে দাঁড় করানো হয়। কিন্তু সেখানে কোনো প্ল্যাটফর্ম বা ওভারব্রিজ না থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামায় চরম বেগ পেতে হয়। এছাড়া ঢাকাগামী একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে এই স্টেশনের জন্য মাত্র ২৫টি আসন বরাদ্দ রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা রুহিয়া স্টেশনে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনের স্টপেজ এবং এসি সিটসহ অন্তত ২০০ আসন বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রুহিয়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার নাজমুল হোসেন বলেন, যাত্রীদের সেবার মান বাড়াতে এখানে দ্রুত একটি যাত্রীছাউনি নির্মাণ এবং প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের স্টেশন মাস্টার আরিফ আহমেদ জানান, যেসব স্টেশনে যাত্রীছাউনি ও বিশ্রামাগার নেই, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের (দিনাজপুর) বিভাগীয় প্রকৌশলী রাকিব হাসান। তিনি জানান, রুহিয়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং যাত্রীছাউনি নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এই নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।


























