ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণে ‘গানবাজনা’র বিরোধিতা কওমি ছাত্রদের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আপত্তি জানিয়েছে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। অনুষ্ঠানটিতে কনসার্ট বা গানবাজনা ও নাচানাচি না রাখার দাবি জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি। তবে কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে কোনো কনসার্টের ঘোষণা দেওয়া হয়নি, কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ khan স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে একই দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের administrator ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। নবীনদের বরণ করার আয়োজন আনন্দঘন হতে পারে, তবে তা যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

সংগঠনটির সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান জানান, তারা চান না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে কলেজে গানবাজনা ও নাচানাচি হোক। অতীতে কলেজে কনসার্ট চলাকালে এক তরুণী ইভ টিজিংয়ের শিকার হওয়ার পর কনসার্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই বিষয়ে তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং অধ্যক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় চার বছর পর কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবের সম্মতি নিয়ে তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলামের প্রতি তাদেরও শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে চান। তারা জেলায় কোনো বিশৃঙ্খলা চান না, তবে পূর্বঘোষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি করতে চান।

সার্বিক বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর তিনটি ধাপে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ, দ্বিতীয় ধাপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তৃতীয় ধাপে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো কনসার্ট করার ঘোষণা কলেজ কর্তৃপক্ষ দেয়নি, কেবল স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, পুলিশ এখনো এ সংক্রান্ত কোনো স্মারকলিপি পায়নি। স্মারকলিপি পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। তারও আগে ৩০ মে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণে ‘গানবাজনা’র বিরোধিতা কওমি ছাত্রদের

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আপত্তি জানিয়েছে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। অনুষ্ঠানটিতে কনসার্ট বা গানবাজনা ও নাচানাচি না রাখার দাবি জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি। তবে কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে কোনো কনসার্টের ঘোষণা দেওয়া হয়নি, কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ khan স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে একই দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের administrator ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। নবীনদের বরণ করার আয়োজন আনন্দঘন হতে পারে, তবে তা যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

সংগঠনটির সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান জানান, তারা চান না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে কলেজে গানবাজনা ও নাচানাচি হোক। অতীতে কলেজে কনসার্ট চলাকালে এক তরুণী ইভ টিজিংয়ের শিকার হওয়ার পর কনসার্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই বিষয়ে তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং অধ্যক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় চার বছর পর কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবের সম্মতি নিয়ে তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলামের প্রতি তাদেরও শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে চান। তারা জেলায় কোনো বিশৃঙ্খলা চান না, তবে পূর্বঘোষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি করতে চান।

সার্বিক বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর তিনটি ধাপে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ, দ্বিতীয় ধাপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তৃতীয় ধাপে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো কনসার্ট করার ঘোষণা কলেজ কর্তৃপক্ষ দেয়নি, কেবল স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, পুলিশ এখনো এ সংক্রান্ত কোনো স্মারকলিপি পায়নি। স্মারকলিপি পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। তারও আগে ৩০ মে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo