ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

পদ্ম-শাপলার চাদরে ঢাকা চাটমোহরের ডিকশির বিল, মুগ্ধ পর্যটকরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২১: ১৫ মিনিটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ডিকশির বিলটি এখন দর্শনার্থীদের কাছে ‘পদ্মবিল’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্ষা মৌসুম আসতেই এই বিলে ফুটেছে হাজারো পদ্ম, শাপলা ও শালুক। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম রূপ উপভোগ করতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত পর্যটক। তবে অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বিলের পাড়ে পৌঁছাতে পর্যটকদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষাকালে এই বিলে ১৫ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত পানি থাকে। তবে চলতি বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও পানি না আসায় বিলটি পুরোপুরি পূর্ণ হতে পারেনি। বিলের মাঝি আমজাদ হোসেন জানান, এ বছর বিলের বিভিন্ন স্থানে পানি রয়েছে মাত্র ৭ থেকে ১০ ফুট। তবে পানি কম থাকলেও বিলজুড়ে পদ্ম, শাপলা ও শালুকের কোনো কমতি নেই। পুরো বিল যেন ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে। আরেক বাসিন্দা শামীম জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এসে নৌকায় চড়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে এখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

কুষ্টিয়া থেকে বন্ধুদের সাথে বিলটি দেখতে আসা কলেজ শিক্ষক শরিফ শাহরিয়ার বলেন, বন্ধুদের মুখে প্রশংসা শুনে এখানে এলাম। সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো দৃশ্য। প্রকৃতির এক অপরূপ মেলবন্ধন এই পদ্মবিল। তবে বিলের পাড়ে আসার সড়কটি অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় পর্যটকদের কাদা-পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, ভালো রাস্তা না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে সপরিবারে এখানে আসতে পারছেন না।

ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, ফৈলজানা ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত এই ডিকশির বিল পাবনা জেলার অন্যতম প্রধান জলাশয়। শুকনো মৌসুমে স্থানীয় মানুষ এখানে ফসলের চাষ করেন এবং বর্ষায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবেশবাদীদের মতে, বছরের প্রায় চার মাস এই বিলে পানি থাকে। এই সময়ে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে একটি পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এর জন্য সরকারি উদ্যোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি প্রয়োজন।

ডিকশির বিল পাড়ের বাসিন্দা মাঝি আমজাদ হোসেন বলেন, 'এ বছর বিলের বিভিন্ন স্থানে ৭-১০ ফুট উচ্চতায় পানি আছে'।

বছরে ৪ মাস ডিকশির বিলে পানি থাকে উল্লেখ করে কয়েকজন পরিবেশবাদী জানান, সে সময় বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে সেখানে পর্যটনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। সেক্ষেত্রে সরকারের জোরালো নজরদারি প্রয়োজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

পদ্ম-শাপলার চাদরে ঢাকা চাটমোহরের ডিকশির বিল, মুগ্ধ পর্যটকরা

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২১: ১৫ মিনিটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ডিকশির বিলটি এখন দর্শনার্থীদের কাছে ‘পদ্মবিল’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্ষা মৌসুম আসতেই এই বিলে ফুটেছে হাজারো পদ্ম, শাপলা ও শালুক। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম রূপ উপভোগ করতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত পর্যটক। তবে অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বিলের পাড়ে পৌঁছাতে পর্যটকদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষাকালে এই বিলে ১৫ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত পানি থাকে। তবে চলতি বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও পানি না আসায় বিলটি পুরোপুরি পূর্ণ হতে পারেনি। বিলের মাঝি আমজাদ হোসেন জানান, এ বছর বিলের বিভিন্ন স্থানে পানি রয়েছে মাত্র ৭ থেকে ১০ ফুট। তবে পানি কম থাকলেও বিলজুড়ে পদ্ম, শাপলা ও শালুকের কোনো কমতি নেই। পুরো বিল যেন ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে। আরেক বাসিন্দা শামীম জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এসে নৌকায় চড়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে এখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

কুষ্টিয়া থেকে বন্ধুদের সাথে বিলটি দেখতে আসা কলেজ শিক্ষক শরিফ শাহরিয়ার বলেন, বন্ধুদের মুখে প্রশংসা শুনে এখানে এলাম। সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো দৃশ্য। প্রকৃতির এক অপরূপ মেলবন্ধন এই পদ্মবিল। তবে বিলের পাড়ে আসার সড়কটি অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় পর্যটকদের কাদা-পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, ভালো রাস্তা না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে সপরিবারে এখানে আসতে পারছেন না।

ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, ফৈলজানা ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত এই ডিকশির বিল পাবনা জেলার অন্যতম প্রধান জলাশয়। শুকনো মৌসুমে স্থানীয় মানুষ এখানে ফসলের চাষ করেন এবং বর্ষায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবেশবাদীদের মতে, বছরের প্রায় চার মাস এই বিলে পানি থাকে। এই সময়ে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে একটি পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এর জন্য সরকারি উদ্যোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি প্রয়োজন।

ডিকশির বিল পাড়ের বাসিন্দা মাঝি আমজাদ হোসেন বলেন, 'এ বছর বিলের বিভিন্ন স্থানে ৭-১০ ফুট উচ্চতায় পানি আছে'।

বছরে ৪ মাস ডিকশির বিলে পানি থাকে উল্লেখ করে কয়েকজন পরিবেশবাদী জানান, সে সময় বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে সেখানে পর্যটনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। সেক্ষেত্রে সরকারের জোরালো নজরদারি প্রয়োজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh