পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্ধুকে হত্যা, লালবাগে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৪:৩২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর শেখ ওয়াসিম ওরফে রনি (৪৭) নামের এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা ও পচন ধরা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার ভোরে লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি ভবনের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ওয়াসিমের বন্ধু মাসুমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ওয়াসিম মূলত জমি কেনাবেচার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে রাজধানীর শনির আখড়ায় বসবাস করতেন। তাঁর বন্ধু মাসুমের কাছে তিনি ৩ লাখ টাকা পেতেন। এই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, পাওনা টাকা চাওয়ায় ওয়াসিমকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। এর আগে গত মঙ্গলবার ওয়াসিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ভাই শেখ আবদুল করিম লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ।
লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আলম সরকার বলেন, নিখোঁজ ওয়াসিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে তাঁর বন্ধু মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। জিডি করার সময়ও মাসুম থানায় এসেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায় মাসুম স্বীকার করেন যে, তাঁর কাছে ওয়াসিম ৩ লাখ টাকা পেতেন এবং সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। গত মঙ্গলবার টাকা দেওয়ার কথা বলে ওয়াসিমকে ডেকে নেন মাসুম। সেখানে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে মাসুম প্রথমে মাথায় আঘাত করে ওয়াসিমকে নিচে ফেলে দেন এবং পরে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করেন। এরপর লাশ গুম করতে হাত-পা বেঁধে এবং মুখে স্কচটেপ ও পলিথিন প্যাঁচিয়ে মাটি খুঁড়ে চাপা দিয়ে রাখেন।
পুলিশ আরও জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে বিসি দাস স্ট্রিটের পাঁচতলা একটি ভবনে তাঁর ইমিটেশন তৈরির কারখানায় অভিযান চালানো হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ ভোরে ভবনের পাশে মাটি খুঁড়ে হাত-পা বাঁধা ও মুখে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


























