হ্যাকিং ও ভয়েস ক্লোন নিয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করলেন চিফ হুইপ
- আপডেট সময় : ০৬:০৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

সংসদ সদস্যদের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ভয়েস ক্লোনিং এবং স্বাক্ষর জালের মাধ্যমে চলমান প্রতারণা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি সংসদ সদস্যদের এই বিষয়ে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে এসব ডিজিটাল জালিয়াতি ও প্রতারণা ঠেকাতে বিটিআরসি ইতিমধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
বক্তব্য দেওয়ার সময় চিফ হুইপ নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে টাকা পাঠানোর বার্তা পাঠানো হয়েছে। নূরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমি কালকে এখানে পেয়েছি, আমাকে তিনজন সংসদ সদস্য বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা পাঠান, ৩০ হাজার টাকা পাঠান, আবার ২৫ হাজার টাকা পাঠান। তিনটা নম্বর থেকেই এসেছে। যাদের নম্বর থেকে এসেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, কল করেছিলাম কিন্তু ধরেনি। মানে মোবাইল (নম্বর) হ্যাক হয়েছে।’’
এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সবাইকে অবহিত করার ওপর জোর দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, শুধু মোবাইল হ্যাকিং বা ভয়েস ক্লোনই নয়, সরকারি ও বিরোধী দলের অনেক সংসদ সদস্যের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও স্বাক্ষর জাল করার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘‘ভয়েস ক্লোন করে এবং কাগজপত্র নিয়ে কাজটা করছে, কিছু কিছু মানুষ স্বাক্ষর জাল করে একটি কাগজ হাজির করছে, সেটাও সমস্যা হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্যদের হয়েছে, সরকার দলের সদস্যদেরও হয়েছে।’’
চিফ হুইপের এই বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, এ ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের ক্লোনিং বা হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ দায়ী নন, তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্র ও executive বিভাগের।
জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, এই বিষয়টি নিয়ে আগের দিন বুধবারই আলোচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করেছে।
এ ছাড়া, পয়েন্ট অব অর্ডারে চিফ হুইপ সংসদ সদস্যদের জন্য লবিতে থাকা ফেস রিডিং ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের সব লবিতে ফেস রিডিং ডিভাইস থাকলেও নিয়মিত তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। সংসদ থেকে তাকে সব সদস্যের ফেস রিডিং করে সংসদ কক্ষে প্রবেশের অনুরোধ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আজকে যেন যাওয়ার সময় সব সদস্য ফেস রিডিং করে যান।’’



























